WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now
IEEE CIACON 2026

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ৩০ জুলাই: প্রযুক্তির দ্রুত বদলে যাওয়া পৃথিবীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কম্পিউটিং এবং উদীয়মান প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা-ভাবনার এক আন্তর্জাতিক মঞ্চ হয়ে উঠল পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের Dr. B. C. Roy Engineering College (BCREC)। বৃহস্পতিবার কলেজের দুলাল মিত্র অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হল IEEE CIACON 2026—‘Computing, Intelligence and Applications’ বিষয়ক দ্বিতীয় IEEE আন্তর্জাতিক সম্মেলনের।৩০ ও ৩১ জুলাই—দু’দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিল্পক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন। কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স, ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে নতুন গবেষণা, উদ্ভাবনী ভাবনা ও বাস্তব প্রয়োগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরাই এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক উদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হ্যাপিনেস টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরামর্শদাতা তথা এপিজে অ্যালায়েন্সেস, ডেল (ইউএসএ)-এর প্রাক্তন ডিরেক্টর ড. অরুণ ভরদ্বাজ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিভিসি (অন্ডাল)-এর চিফ জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অফ প্রজেক্ট অনিল কুমার জৈন, MAKAUT-এর অধ্যাপক এবং IEEE কলকাতা শাখার প্রতিনিধি অধ্যাপক দেবাশিস দে, IEEE Computational Intelligence Society, Kolkata Chapter-এর অধ্যাপক সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য, BCREC সোসাইটির সভাপতি ডা. সত্যজিৎ বোস, সাধারণ সম্পাদক তরুণ ভট্টাচার্য, কোষাধ্যক্ষ জার্নেল সিং, BCREC এর অধ্যক্ষ তথা CIACON 2026-এর জেনারেল চেয়ার অধ্যাপক ড. সঞ্জয় এস. পাওয়ার এবং সম্মেলনের অর্গানাইজিং চেয়ার অধ্যাপক রাজ কুমার সামন্ত।প্রথাগত প্রদীপ প্রজ্বলনের পরিবর্তে একটি চারাগাছে জল দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা, টেকসই উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ বিকাশের প্রতীকী বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক উদয় বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তিনি বলেন, আগামী দিনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রকৌশলবিদ্যার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, মানুষের বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটে জৈবিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। তাই ভবিষ্যতের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও মানব জীববিজ্ঞানের মৌলিক নীতি এবং বিভিন্ন শাখার সমন্বিত (Interdisciplinary) গবেষণা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। এমন সমন্বিত চিন্তাভাবনাই আগামী দিনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে আরও মানবকেন্দ্রিক ও কার্যকর করে তুলতে পারে।

আরও পড়ুন- উদ্ভাবনের মঞ্চে তরুণদের উড়ান: ড. বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে AICTE বুটক্যাম্পে নতুন আশার আলো

সম্মানিত অতিথি ড. অরুণ ভরদ্বাজ তাঁর বক্তৃতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানুষের বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি AI-এর সম্ভাবনা যেমন ব্যাখ্যা করেন, তেমনই এর সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা ছিল—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিকল্প নয়, বরং মানুষের দক্ষতা ও সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তোলার একটি কার্যকর হাতিয়ার। পাশাপাশি তিনি, কীভাবে এই প্রযুক্তি কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, স্মার্ট গ্রাম গঠন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মতো ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, তা ব্যাখ্য়া করেন।

আয়োজকদের বক্তব্য, CIACON 2026 কেবল একটি গবেষণা সম্মেলন নয়, বরং শিক্ষাঙ্গন ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সম্মেলনে রয়েছে বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কী-নোট বক্তৃতা, কারিগরি গবেষণাপত্র উপস্থাপন এবং বুদ্ধিমান কম্পিউটিং ও তার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা।

ড. বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের আশা, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পমহলের মধ্যে অর্থবহ অংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে এবং নতুন প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষার্থীরা কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমের ক্ষেত্রে আরও উদ্ভাবনী গবেষণায় উৎসাহিত হবেন।