দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ৮ সেপ্টেম্বর: হোটেলের ঘর ভাড়া নিয়েই চলছিল সাইবার প্রতারণার কারবার! দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে টার্গেট করে চলছিল টাকা হাতানোর ছক। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেই ঘাঁটিতে হানা দিয়ে চার যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। ঘটনাটি পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে স্টেশন বাজার সংলগ্ন সাধুডাঙা এলাকার একটি হোটেলের।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত চার যুবকের প্রত্যেকের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের দেওঘর জেলার মধুপুর এলাকায়। ধৃতদের নাম গণেশ সর্দার, শচীন দাস, জিতেন্দ্র কুমার দাস এবং সুরেন্দ্র দাস। পুলিশের দাবি, হোটেলের ঘর থেকেই বিভিন্ন ফোন ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে দেশের নানা প্রান্তের মানুষকে নিশানা করা হত। নানা কৌশলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে তাঁদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাত অভিযুক্তরা।
তল্লাশি চালিয়ে পুলিশের হাতে এসেছে একাধিক ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি। উদ্ধার হওয়া এই সামগ্রীগুলিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের নজর এড়াতে একই হোটেলে দীর্ঘদিন থাকত না অভিযুক্তরা। কিছুদিন পরপরই বদলে ফেলত থাকার জায়গা। ফলে নির্দিষ্ট কোনও ঠিকানায় তাদের গতিবিধি নজরে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত গোপন সূত্রে তাদের অবস্থানের খবর পায় পুলিশ। এরপরই সাধুডাঙার ওই হোটেলে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশি চালিয়ে চার যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে কুখ্যাত ‘জামতারা গ্যাং’-এর সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগও উঠেছে। যদিও সেই যোগ কতটা গভীর, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের নজরে এখন আরও কয়েকটি প্রশ্ন—এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত? দুর্গাপুর ছাড়াও দেশের কোন কোন এলাকায় তাদের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে রয়েছে? কতজন মানুষকে তারা নিশানা করেছিল? প্রতারণার টাকা কোথায় এবং কীভাবে লেনদেন করা হত? উদ্ধার হওয়া ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে নেহরুর মূর্তি তুলে ফেলে দেওয়া হল জঙ্গলে!
(বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)


