দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ৯ সেপ্টেম্বর: বাজারে পণ্য কিনতে গিয়ে নকল জিনিস, ভুল দাম, বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন কিংবা অনলাইন প্রতারণার ফাঁদে পড়ার ঘটনা এখন আর বিরল নয়। এই পরিস্থিতিতে নিজের অধিকার জানা এবং কেনাকাটার সময় সচেতন থাকা কতটা জরুরি, তা নিয়ে পড়ুয়াদের সচেতন করতে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ডা. বি. সি. রায় পলিটেকনিকে আয়োজিত হল ‘উপভোক্তা সুরক্ষা ও অধিকার’ বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপভোক্তা বিষয়ক দফতর এবং ‘আস্থা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট’ সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কনজিউমার অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টরেটের কনজিউমার ওয়েলফেয়ার অফিসার সৌর কান্তি রায় এবং আস্থা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের সেক্রেটারি শ্যামল ব্যানার্জী। পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাঁরা তুলে ধরেন দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে অনলাইন লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই কী ভাবে একজন সচেতন উপভোক্তা নিজের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে পারেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ ড. অরিজিৎ কুমার ব্যানার্জী বলেন, বর্তমান সময়ে উপভোক্তা সচেতনতা শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজন নয়, সামাজিক দায়িত্বও। নকল পণ্য, ভুল মূল্য, বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন, অনলাইন প্রতারণা অথবা বেআইনি বাণিজ্যিক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার জন্য পড়ুয়াদের পরামর্শ দেন তিনি।
মূল বক্তব্যে সৌর কান্তি রায় বিভিন্ন উপভোক্তা অধিকার এবং অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পণ্য কেনার আগে গুণমান ও সার্টিফিকেশন চিহ্ন যাচাই, সঠিক মূল্য দেখে কেনাকাটা এবং বিল বা প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। শুধু নিয়মের কথা বলেই থেমে থাকেননি বক্তারা। বাস্তব পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়, কোনও পণ্য বা পরিষেবা নিয়ে প্রতারণা বা বেআইনি বাণিজ্যিক কার্যকলাপের শিকার হলে উপভোক্তার কী করণীয়। বিশেষ করে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের ‘ন্যাশনাল কনজিউমার হেল্পলাইন ১৯১৫’ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। উপভোক্তা সংক্রান্ত সমস্যা বা অভিযোগের ক্ষেত্রে এই পরিষেবার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া যায় বলে জানান বক্তারা। তাঁদের বক্তব্য, নিজের অধিকার জানা যথেষ্ট নয়। সেই জ্ঞান পরিবারের সদস্য, বন্ধু এবং আশপাশের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে হবে। তবেই তৈরি হবে আরও সচেতন উপভোক্তা সমাজ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ইনস্টিটিউশন ইনোভেশন কাউন্সিল (IIC)-এর কো-অর্ডিনেটর অভিষেক পাল এবং সদস্য ইশিতা ব্যানার্জী ও শুভজিৎ রায়।
আরও পড়ুন: আকাশ থেকেই নেভাবে আগুন! BCREC-এর পড়ুয়াদের উদ্ভাবন নিয়ে চলছে জোর চর্চা


