WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ১০ সেপ্টেম্বর: পর পর তারাপীঠ ও কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বড় কোনও দুর্ঘটনার আগেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং মল-সহ জনবহুল বাণিজ্যিক ভবনগুলিতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র জংশন মলে অভিযান চালাল দমকল বিভাগ।

এদিন দমকল বিভাগের আধিকারিকেরা মলের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। মলের প্রতিটি তলে অগ্নি-নিরাপত্তার জন্য কী কী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেগুলি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, জরুরি পরিস্থিতিতে আগুন নেভানোর সরঞ্জাম ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হয়।

বিশেষ নজর দেওয়া হয় মলের খাবারের স্টল ও রেস্তোরাঁ অংশে। রান্নার কাজে গ্যাস ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে এই ধরনের জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি বেরোনোর পথ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন আধিকারিকেরা।

পাশাপাশি জংশন মলের মাল্টিপ্লেক্স এলাকাতেও অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়। বিপদের সময় দর্শক ও কর্মীদের দ্রুত নিরাপদে বের করে আনার মতো ব্যবস্থা রয়েছে কি না, জরুরি পরিস্থিতিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হতে পারে—সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হয়।

দমকলের এই তৎপরতার মূল লক্ষ্য, কোনও অগ্নিকাণ্ডের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা দূর করা। বিশেষ করে শপিং মল, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও মাল্টিপ্লেক্সের মতো জায়গায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত থাকে। ফলে সেখানে অগ্নি-নিরাপত্তার সামান্য ত্রুটিও বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

পর পর একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর এই ধরনের পরিদর্শন সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করছে। দমকল বিভাগের এই ধরনের পরিদর্শন আগামী দিনে দুর্গাপুরের অন্যান্য জনবহুল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ নেই, জেনারেটর অচল, কাজকর্ম বন্ধ দুর্গাপুরের প্রধান ডাকঘরে