দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ৩১ অক্টোবর: রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সিপিএমের দলীয় কার্যালয় ও পুজোর সময় বামেদের বইয়ের স্টলে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে বিজেপি ও বামেদের রাজনৈতিক সংঘাত যখন চর্চায়, তখন পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে দেখা গেল অন্য ছবি। বিজেপি বিধায়কের কাজের প্রশংসা শোনা গেল সিপিএমের প্রাক্তন কাউন্সিলরের মুখে। কালীপুজোর খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের প্রতিনিধির এই সৌজন্য বিনিময় ঘিরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে দুর্গাপুরের রাজনৈতিক মহলে।
দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। শনিবার দুর্গাপুরের ক্ষুদিরাম মাঠে ক্ষুদিরাম অ্যাথলেটিক ক্লাবের কালীপুজোর খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ওই ক্লাবের সভাপতি তথা দুর্গাপুরের প্রাক্তন সিপিএম কাউন্সিলর অধীর ঘোষের উদ্যোগেই আয়োজিত হয়েছিল অনুষ্ঠানটি। সেখানেই একই মঞ্চে দেখা যায় বিজেপি বিধায়ক ও প্রাক্তন বাম কাউন্সিলরকে।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের কাজের প্রশংসা করেন অধীর। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতেই পারে। কিন্তু কেউ ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করতে আপত্তির কোনও কারণ নেই। অধীরের কথায়, “বিধায়ক যেভাবে পুজো করেছেন, তার কোনও তুলনা হয় না। রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ তাঁর এই উদ্যোগের প্রশংসা করছেন। আমরাও সেই প্রশংসা করছি। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতে পারে, কিন্তু ভালো কাজের প্রশংসা করতে কোনও দ্বিধা নেই।”
অন্যদিকে, উৎসবের মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে ওঠার বার্তা দিয়েছেন লক্ষ্মণও। তাঁর কথায়, পুজোর মতো সর্বজনীন উৎসবে কোনও ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। উৎসব সকলের, সেখানে রাজনৈতিক বিভাজনের জায়গা নেই। দুর্গাপুরের উন্নয়নের স্বার্থে যাঁরা কাজ করতে চান, তাঁদের সকলকেই স্বাগত জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এখানেই থেমে থাকেননি বিজেপি বিধায়ক। সিপিএমের মধ্যেও এমন অনেক নেতা রয়েছেন, যাঁরা দুর্গাপুরের উন্নতি চান বলে মন্তব্য করেন লক্ষ্মণ। তাঁরা এগিয়ে এলে তাঁদের সাদরে গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
রাজ্যের রাজনীতিতে বিজেপি ও সিপিএমের মধ্যে মতাদর্শগত বিরোধ নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জায়গায় বামেদের উপর হামলার অভিযোগ সেই রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে। সেই আবহে দুর্গাপুরের কালীপুজোর মঞ্চে দুই শিবিরের প্রতিনিধির এমন পারস্পরিক সৌজন্য স্বাভাবিক ভাবেই নজর কেড়েছে। তবে এই সৌজন্য কি শুধুই উৎসবের মঞ্চে সৌহার্দ্যের প্রকাশ, নাকি এর পিছনে রয়েছে দুর্গাপুরের রাজনীতির কোনও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত? আপাতত সেই প্রশ্নই ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।
আরও পড়ুন: শীতকালীন উড়ান সূচি চালু হল অন্ডাল বিমানবন্দরে, কোন বিমান কখন ছাড়বে?
(বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)


