দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ১৩ সেপ্টেম্বর: সংসারের টানাটানির মধ্যেও মাসে মাসে টাকা জমিয়েছিলেন তাঁরা। কেউ দিনমজুরি করেন, কেউ পরিচারিকার কাজ, কেউ বা ছোট ব্যবসা করে সংসার চালান। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—বিপদের দিনে সেই জমানো টাকা কাজে লাগবে। কিন্তু অভিযোগ, এখন সেই টাকাই ফেরত মিলছে না। উল্টে যাঁর কাছে টাকা জমা রাখা হয়েছিল, সেই মহিলারই কোনও হদিশ নেই।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর পুরসভার বীরভানপুরে এই অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা চম্পা বাউরি-র বিরুদ্ধে এলাকার শতাধিক মহিলার কাছ থেকে মাসিক ফান্ডের নামে কয়েক লক্ষ টাকা সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ তুলে এবার কোকওভেন থানার দ্বারস্থ হয়েছেন মহিলারা।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি মাসিক ফান্ড চালাতেন চম্পা। নিয়মিত টাকা জমা রাখলে ভবিষ্যতে একসঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি বেশি সুদের আশ্বাসও দেওয়া হত বলে অভিযোগ। সেই ভরসাতেই বছরের পর বছর ধরে তাঁর কাছে টাকা জমাতে থাকেন এলাকার বহু মহিলা।
কারও কাছে সেই টাকা ছিল সংসারের সঞ্চয়, কারও কাছে দিনভর পরিশ্রমের উপার্জন। অল্প অল্প করে জমতে জমতেই টাকার অঙ্ক পৌঁছয় কয়েক লক্ষে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের পর টাকা ফেরত চাওয়া হলে শুরু হয় টালবাহানা—এমনই অভিযোগ মহিলাদের।
এরপর পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে বলে দাবি তাঁদের। অভিযোগ, চম্পা বাউরি আর এলাকায় নেই। তাঁর সঙ্গে ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। টাকা ফেরত না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একজোট হয়ে থানায় অভিযোগ জানান মহিলারা।
প্রতারিতদের দাবি, শুধু টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা করলেই হবে না, কীভাবে এতদিন ধরে এই ফান্ড চলল, কতজনের কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে এবং সেই টাকা কোথায় গেল—পুরো বিষয়টির তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
প্রতারিত মহিলা দীপা বাউরি বলেন, “আমরা ওঁর কাছে টাকা রাখতাম বিপদে-আপদে পাব বলে। কিন্তু এখন টাকা নিয়ে গায়েব হয়ে গেছে। আমরা টাকা দিতে না চাইলেও আমাদের স্বামীদের ফোন করে টাকা দেওয়ার কথা জানাত। আমরা এখন চরম বিপাকে পড়েছি। আমরা ওঁর শাস্তি চাইছি।”
ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁদের কষ্টার্জিত টাকা দ্রুত উদ্ধার করতে হবে এবং অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। তবে অভিযোগের সত্যতা, মোট কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং চম্পা বাউরি বর্তমানে কোথায় রয়েছেন—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
আরও পড়ুন: বৃষ্টি হলেই ঘরে জল, সাপ-ব্যাঙের আতঙ্ক দুর্গাপুরের বীরভানপুরে


