দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ১০ সেপ্টেম্বর: নিকাশী ব্যবস্থার বেহাল দশা। আর তার জেরে বৃষ্টি হলেই জলমগ্ন হয়ে পড়ছে বাড়িঘর। কখনও হাঁটুজল পেরিয়ে ঘরে ঢুকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের, আবার কখনও ঘরের ভিতরেই জমে থাকছে নোংরা জল। শুধু জল নয়, সেই জলের সঙ্গে বাড়িতে ঢুকে পড়ছে সাপ, ব্যাঙ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়। বছরের পর বছর ধরে এমনই দুর্ভোগের অভিযোগ পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বীরভানপুর গ্রামের একাংশের বাসিন্দাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক-দু’দিনের সমস্যা নয়, প্রায় ১৫ বছর ধরে নিকাশী ব্যবস্থার এই বেহাল পরিস্থিতির কারণে বর্ষাকালে চরম সমস্যায় পড়তে হয় তাঁদের। সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকার জল বের হওয়ার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জমে থাকা জল ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ে বসতবাড়ির ভিতরে।
বুধবার গভীর রাতেও ফের একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির জল ঢুকে পড়ে বেশ কয়েকটি বাড়িতে। ঘরের মেঝেতে জল জমে যাওয়ায় কার্যত আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাতে হয় বাসিন্দাদের। অভিযোগ, ঘরের মধ্যে জল ঢোকার কারণে নষ্ট হয়ে যায় আসবাবপত্র, খাবারদাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, নোংরা জল জমে থাকার কারণে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ে সাপ, ব্যাঙ ও নানা ধরনের পোকামাকড়। ফলে জলবন্দি হওয়ার পাশাপাশি বিষধর সাপের আশঙ্কাতেও আতঙ্কে থাকতে হয় পরিবারগুলিকে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বাড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও পুরসভাকে জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্ষা এলেই ফের একই দুর্ভোগ শুরু হয়। তাঁদের প্রশ্ন, প্রতি বছর জল ঢোকার পর সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি এবার নিকাশী ব্যবস্থার স্থায়ী সংস্কার করা হবে?
এদিকে বুধবার রাতে বাড়িতে জল ঢোকার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পুরসভার কর্মীরা এলাকায় পৌঁছন। নিকাশী ব্যবস্থা ও জল বের করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর ফলে পরিস্থিতির কিছুটা সুরাহা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে বাসিন্দাদের বক্তব্য, সাময়িকভাবে জল সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নিকাশী নালা সংস্কার, জল বের হওয়ার সঠিক পথ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান চান তাঁরা।
দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বর্ষা এলেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে বীরভানপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, এলাকার নিকাশী ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কারের ব্যবস্থা করুক পুরসভা। কারণ পরবর্তী ভারী বৃষ্টিতে ফের যদি একইভাবে জল বাড়িঘরে ঢুকে পড়ে, তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কাও রয়েছে।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ নেই, জেনারেটর অচল, কাজকর্ম বন্ধ দুর্গাপুরের প্রধান ডাকঘরে


