
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার সিটি সেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে আসছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনের তরফে বৈঠক ঘিরে ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং বীরভূম— এই পাঁচ জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার সাংসদ, বিধায়ক, জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, বিডিও, পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার, সার্কেল ইনস্পেক্টর এবং বিভিন্ন থানার আধিকারিকদের।
সরকারি সূত্রের খবর, জেলার উন্নয়নমূলক প্রকল্প, নাগরিক পরিষেবা, পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প পরিস্থিতি এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বৈঠকে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক কর্তারা স্থানীয় বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করে কোন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন, কোথায় কাজ আটকে রয়েছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে তার খতিয়ান তৈরি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সামনে সেই রিপোর্ট তুলে ধরা হবে বলে জানা গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সিটি সেন্টার ও আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া করা হয়েছে। একাধিক জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
গত কয়েক বছরে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে একাধিক কারখানা বন্ধ হওয়া এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার জেরে কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক বৈঠকে শিল্প পুনরুজ্জীবন বা বন্ধ কারখানা খোলার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটি প্রশাসনিক বৈঠক। আগাম কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে কেন্দ্রীয় সরকার দুর্গাপুরে শিল্প করিডর তৈরির কথা বলেছে। রাজ্য সরকারও শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে উদ্যোগী। শিল্পপতিরা নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। শিল্পাঞ্চল আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমরা আশাবাদী।”
দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের দাবি, “অবৈধ টোল আদায়, কাটমানি, অবৈধ বালি ও কয়লার কারবারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এলাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিশা দেখাবে বলেই আমরা মনে করছি।”

