
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘতম সময় ধরে একটানা দায়িত্ব পালনের রেকর্ড গড়লেন তিনি। এই বিশেষ দিনটিকে ঘিরে দেশজুড়ে বিজেপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের আবহ তৈরি হয়েছে। তারই প্রতিফলন দেখা গেল পশ্চিম বর্ধমান জেলার শিল্পনগরী দুর্গাপুরেও।
২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে টানা ৪,৩৯৯ দিনেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ৪,৩৯৮ দিনের রেকর্ড অতিক্রম করেছেন নরেন্দ্র মোদী। এর ফলে ভারতের ইতিহাসে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের নজির গড়লেন তিনি।
২০১৪ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বার এবং ২০২৪ সালে পরপর তৃতীয়বার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নরেন্দ্র মোদী। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের নেতৃত্বে থেকে তিনি এই বিরল মাইলফলকে পৌঁছেছেন।
শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নয়, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী— এই দুই পদ মিলিয়ে সরকারপ্রধান হিসেবে মোট ৮,৯৩১ দিন, অর্থাৎ প্রায় ২৪ বছর দায়িত্ব পালনের রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। ফলে দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসেও তাঁর নাম এক বিশেষ উচ্চতায় স্থান করে নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সাফল্যে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, টানা তিনবার জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ঘটনা।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিজেপি। দুর্গাপুরেও দিনটি উদযাপিত হয় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। এমএএমসি জগন্নাথ মন্দিরে বিজেপির উদ্যোগে বিশেষ পুজো ও যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের একাধিক নেতা ও কর্মী।
অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনার পাশাপাশি দেশের এবং রাজ্যের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনায় বিশেষ পুজো ও যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মেনে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জগন্নাথদেবের আশীর্বাদে দেশ আরও উন্নতির পথে এগিয়ে যাক, সেই প্রার্থনাই করেছি আমরা।”
মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও ছিল উৎসবের আবহ। অনেকেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তাঁদের বক্তব্য, দেশের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা এবং একাধিক জনমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নে মোদীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এত দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের আস্থা অর্জন করে দেশের নেতৃত্ব দেওয়া নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আর সেই অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ, যার প্রতিধ্বনি শোনা গেল দুর্গাপুরের জগন্নাথ মন্দিরেও।

