
এসআইআরের পর জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রে নজরদারি
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে ঘিরে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু নিয়ে ওঠা অভিযোগের জেরে এবার রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা। বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পুরসভায় চলছে পুলিশি তল্লাশি। সেই তালিকায় রয়েছে দুর্গাপুরও। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্টার, আবেদন সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড সংগ্রহ করে নিজেদের হেফাজতে নিচ্ছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় ভুয়ো বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে জন্ম শংসাপত্র ইস্যুর অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ছিল, এই ধরনের শংসাপত্র ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই এখন রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েতে নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। তদন্তকারী দল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছে।
পাশাপাশি, রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র থানায় নিয়ে গিয়ে বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হবে। কোথাও নিয়ম লঙ্ঘন করে শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা ভুয়ো নথির ভিত্তিতে কোনও সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে বুলডোজার দিয়ে সরানো হল বিশ্ববাংলা লোগো!
দেড় লক্ষ শ্রমিকের মুখে হাসি ফেরালো রাজ্য সরকারের শ্রম দফতর
এদিকে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। ভুয়ো সার্টিফিকেট রুখতে সম্প্রতি ‘রেজিস্ট্রেশন অফ বার্থ অ্যান্ড ডেথ (অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৬’ জারি করে নতুন গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় একাধিক স্তরে নথি যাচাই এবং তথ্যের নির্ভুলতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর পুরসভাতেও একইভাবে জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত সরকারি নথি পরীক্ষা চলছে। রেজিস্টার, আবেদনপত্র এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের মধ্যে কোনও অসঙ্গতি বা তথ্যগত গরমিল রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে সেগুলির বিশ্লেষণ চলছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
তদন্তে যদি কোনও অনিয়ম বা জালিয়াতির প্রমাণ মেলে, তাহলে তার বিস্তারিত রিপোর্ট রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে পাঠানো হবে। এরপর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।


