দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ১৪ অক্টোবর: নতুন আদালত ভবনের উদ্বোধন ঘিরে প্রত্যাশা ছিল অনেক। বিচার পরিষেবার উন্নতি হবে, কমবে দীর্ঘসূত্রতা—এমনই আশা করেছিলেন আইনজীবী থেকে বিচারপ্রার্থী, সকলেই। কিন্তু উদ্বোধনের পরেও নতুন ভবনে আদালত চালু করা যায়নি। এবার, পুরনো আদালতের নথিপত্র নতুন ভবনে স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে তৈরি হল জটিলতা। রেকর্ড স্থানান্তরের নির্দেশিকার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিলেন দুর্গাপুর মহকুমা আদালতের আইনজীবী ও কর্মীরা।
বুধবার নতুন মহকুমা আদালত ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান আইনজীবীরা। তাঁদের অভিযোগ, মঙ্গলবার আচমকাই একটি নির্দেশিকা জারি করে পুরনো আদালতে থাকা সমস্ত রেকর্ড নতুন ভবনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ এর আগে তাঁদের জানানো হয়েছিল, পুজোর আগে রেকর্ড স্থানান্তরের কোনও কাজ হবে না। আচমকা এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ আইনজীবী ও বিচার বিভাগীয় কর্মীদের একাংশ।
আইনজীবীদের বক্তব্য, নতুন আদালত ভবনে বিচারপ্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু নথিপত্র সরিয়ে নিয়ে গেলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বরং উপযুক্ত ব্যবস্থা না করে রেকর্ড স্থানান্তর করা হলে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ এবং আদালতের কর্মীদের নানা অসুবিধার মুখে পড়তে হতে পারে। সেই আশঙ্কার কথা জানিয়ে আগেই একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁদের।
দুর্গাপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সঞ্জীব কুন্ডু বলেন, বিচারপ্রার্থীদের সুবিধা এবং আদালতের বিভিন্ন দফতরের কর্মীদের সমস্যার কথা মাথায় রেখেই প্রস্তাবগুলি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, সেই প্রস্তাবগুলির একটিও কার্যকর করা হয়নি। তার মধ্যেই হঠাৎ রেকর্ড স্থানান্তরের নির্দেশিকা জারি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
আইনজীবীদের দাবি, তাঁদের উত্থাপিত সমস্যাগুলির সমাধান করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। তার আগে রেকর্ড স্থানান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হলে তার প্রভাব পড়তে পারে আদালতের দৈনন্দিন কাজে। তাঁদের হুঁশিয়ারি, সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ চলবে। সমস্যার দ্রুত সমাধান না মিললে তার ভোগান্তি শেষ পর্যন্ত পোহাতে হতে পারে বিচারপ্রার্থীদেরই! (বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)


