দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ৮ অক্টোবর: পুজোর মুখে প্রাচীন জলাশয়ে একের পর এক মাছের মৃত্যু। জলাশয়ের জলে কোনও বিষাক্ত পদার্থ বা রাসায়নিক মেশানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। মাছ ভেসে ওঠার পাশাপাশি জলাশয় সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে নিউ টাউনশিপ থানার পদ্ম পুকুর এলাকায়।
বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই জলাশয়ের জলে মৃত মাছ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মৃত মাছের সংখ্যা বাড়তে থাকে বলে দাবি তাঁদের। জলাশয়ের চারপাশে দুর্গন্ধও ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ আরও বাড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, পুকুরটি দীর্ঘদিনের পুরনো জলাশয়। এলাকার মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে এই জলাশয়ের জল ব্যবহার করতে হয়। শুধু তাই নয়, আশপাশের জঙ্গল থেকে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীও জল খেতে এই জলাশয়ে আসে বলে স্থানীয়দের বক্তব্য।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ। মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, জলাশয়ের জলে কোনও রাসায়নিক বা বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। এলাকার বিজেপি বুথ সভাপতি বাপ্পা গরাইয়ের অভিযোগ, পুজোর আগে পরিকল্পিতভাবে জলাশয়ের জলে বিষ বা কোনও রাসায়নিক মেশানো হয়ে থাকতে পারে। তাঁর দাবি, কয়েকদিন ধরে জলাশয় থেকে মাছ ধরা হয়েছিল। এরপরই মাছ মরে ভেসে ওঠার ঘটনা ঘটেছে।
বাপ্পা গরাই বলেন, জলাশয়টি এলাকার মানুষের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। তাঁর অভিযোগ, কোনও কেমিক্যাল বা বিষ মেশানোর ফলেই এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
তবে জলাশয়ের জলে সত্যিই বিষ বা রাসায়নিক মেশানো হয়েছিল কি না, এখনও তা নিশ্চিত নয়। মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত এবং প্রয়োজনে জল ও মৃত মাছের নমুনা পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পর জলাশয়ের জল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার দাবি উঠেছে।
আরও পড়ুন: ‘অযোগ্যরা টাকা পাচ্ছে, আমরা যোগ্যরা কেন বঞ্চিত?’
(বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)



