দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ৬ সেপ্টেম্বর: পেটে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের ‘দ্য মিশন হসপিটাল’-এ এসেছিলেন ৪৫ বছর বয়সী এক মহিলা। জরুরি পরীক্ষার অংশ হিসেবে তাঁর এমআরআই (MRI) করা হয়। ধরা পড়ে এক বিরল ও জটিল শারীরিক সমস্যা—‘টাইপ-১ কোলেডোকাল সিস্ট’ (Type-1 Choledochal Cyst)। এটি মূলত সাধারণ পিত্তনালীর (Common Bile Duct) একটি জন্মগত বা গঠনগত প্রসারণ। এই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় রোগীর পেটে চরম ব্যথা, জন্ডিস এবং বারবার পিত্তনালীতে ভয়াবহ সংক্রমণ হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, দীর্ঘমেয়াদে এই সিস্ট থেকে পিত্তনালীর ক্যানসারের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়।
সঠিক চিকিৎসার আশায় রোগী এই রাজ্য তো বটেই, দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালেও গিয়েছিলেন। তবে পিত্তনালীটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় সর্বত্রই তাঁকে ‘ওপেন সার্জারি’ বা পেট কেটে প্রচলিত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সময়ে সরু পিত্তনালী থেকে পিত্তরস চুঁইয়ে পড়া বা ‘বাইল লিকেজ’ (Bile Leakage)-এর মারাত্মক ঝুঁকি ছিল।
অনিশ্চয়তার দোলাচলেই তিনি ‘দ্য মিশন হসপিটাল’-এ এইমস (AIIMS)-এর প্রাক্তন চিকিৎসক তথা প্রখ্যাত জিআই ও এইচপিবি সার্জন ড. বিজিত সাহা (MS, MCh)-র শরণাপন্ন হন। তিনি মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতিতে জটিল পিত্তনালীর অস্ত্রোপচার করে থাকেন। রোগীর পরিবারকে মিনিমালি ইনভেসিভ রোবোটিক সার্জারির নিরাপত্তা, কম রক্তপাত এবং দ্রুত আরোগ্যের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন তিনি।
আরও পড়ুন- রোবোটিক সার্জারির অভূতপূর্ব সাফল্য: ৭২ বছর বয়সী রোগীর কিডনির বিরল জটিলতার নিরসন
অস্ত্রোপচার ছাড়াই জটিল হৃদরোগের উপশম, চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত দুর্গাপুরে
রোগীর ‘রোবট-সহায়তায় কোলেডোকাল সিস্ট অপসারণ’ এবং পিত্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য ‘রু-এন-ওয়াই হেপাটিকোজেজুনোস্টমি’ করা হয়। রোবোটিক প্রযুক্তির সুবাদে মাত্র ৫ মিলিমিটারের অত্যন্ত সরু পিত্তনালী ও অন্ত্রের সংযোগ পুনর্গঠনের কাজটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর পিত্তরস চুঁইয়ে পড়ার কোনো সমস্যা হয়নি এবং অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ ছাড়াই অস্ত্রোপচারের মাত্র তৃতীয় দিনেই রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে যান।
এইচপিবি (HPB) শল্যচিকিৎসায় এই সাফল্য প্রমাণ করল যে জটিল অস্ত্রোপচারে রোবোটিক প্রযুক্তি অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর। স্বভাবতই মিশন হসপিটালের এই যুগান্তকারী সাফল্য দুর্গাপুর তথা সমগ্র দক্ষিণ বঙ্গের রোগীদের কাছে বিশ্বমানের আধুনিক ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।



