দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ২৫ অক্টোবর: ১২২ বছরের প্রথায় বদল। বেনাচিতির রায় পরিবারের লক্ষ্মী-নারায়ণ পুজোয় এবার যুক্ত হল নতুন অধ্যায়। ১৯০৪ সাল থেকে মাটির মূর্তিতে পুজো হয়ে এলেও ১২৩তম বর্ষে রাজস্থানের জয়পুর থেকে আনা হয়েছে শ্বেত পাথরের লক্ষ্মী-নারায়ণ বিগ্রহ। শনিবার সম্পন্ন হয়েছে বিগ্রহের অভিষেক। এবার থেকে স্থায়ী বিগ্রহেই পুজো হবে, আর বিসর্জনের রীতি থাকছে না।
স্থানীয় প্রবীণদের কাছ থেকে জানা যায়, বেনাচিতি গ্রামের রায় পরিবারের প্রয়াত গিরিশচন্দ্র রায় ১৯০৪ সালে দুর্গামন্দির রোডের ধারে লক্ষ্মী-নারায়ণ জিউয়ের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। একসময় টালির চালের সেই মন্দিরে শুরু হয় পুজো। ২০০৪ সালে শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে মন্দিরটির সংস্কার করা হয়।
সময়ের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছেন। তবু কোজাগরী পূর্ণিমায় লক্ষ্মী-নারায়ণের পুজোয় ছেদ পড়েনি। তিন দিন ধরে চলে পুজোর আয়োজন। থাকে ভোগ বিতরণ, বিসর্জনের আগে পরিবারের মহিলাদের সিঁদুর খেলা এবং দুঃস্থদের শাড়ি বিতরণ-সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি।
আগে পরিবারের শরিকেরা পালা করে পুজোর দায়িত্ব সামলাতেন। তবে অনেক সদস্য বিদেশে থাকায় পুজো পরিচালনায় সমস্যা দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতিতে পুজোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ট্রাস্ট।
ট্রাস্টের সম্পাদক গৌতম রায় জানান, এবার থেকে মাটির মূর্তির পরিবর্তে জয়পুর থেকে আনা শ্বেত পাথরের লক্ষ্মী-নারায়ণ বিগ্রহেই পুজো হবে। পরিবারের সদস্য আমেরিকার স্প্রিংফিল্ডের বাসিন্দা লক্ষ্মীনারায়ণ রায় বিগ্রহের ব্যয়ভার বহন করেছেন। বিগ্রহের পরিকল্পনা করেছেন শিল্পী সোমনাথ অধিকারী।
শনিবারের অভিষেক অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যদের অনেকেই সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারলেও প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁরা অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দেশ-বিদেশে থাকা সদস্যদের জন্য ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে অভিষেক দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।
মাটির মূর্তি থেকে স্থায়ী শ্বেত পাথরের বিগ্রহ—পুজোর আচার-আয়োজনের এই পরিবর্তনের মধ্যেও বেনাচিতির রায় পরিবারের কাছে অটুট রয়েছে পূর্বপুরুষের স্মৃতি ও দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্য। (বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)


