
‘পাতালে থাকলেও খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা হবে’, হুঁশিয়ারি বিজেপি বিধায়কের
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের অমরাবতী এলাকার শিবশক্তি মন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মন্দিরের শ্বেতপাথরের তৈরি সিংহাসন ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছেন মন্দির কমিটির সদস্য এবং এলাকাবাসী। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ বিশ্বাস পলাতক বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অমরাবতীর শিবশক্তি মন্দির কমিটির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের মতবিরোধ চলছিল। অভিযোগ, সোমবার গভীর রাতে তিনি মন্দিরের সেবাইতদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন। এরপর মন্দিরের ভিতরে থাকা শ্বেতপাথরের মূল্যবান সিংহাসন ভাঙচুর করা হয়। রাতেই বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অমরাবতীর নিউ টাউনশিপ থানার অন্তর্গত এই শিবশক্তি মন্দিরটি সম্প্রতি সংস্কার করে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। শ্বেতপাথরের সিংহাসনে দেবদেবীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং প্রতিদিন বহু ভক্ত এখানে পুজো দিতে আসেন। সেই মন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মন্দির কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখেন। পরে নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: সাতসকালে দুর্গাপুরে NIA-এর হানা! নিউ স্টিল পার্ক থেকে গ্রেফতার এক ব্যক্তি
আঙুল উঁচিয়ে হুঁশিয়ারি! পুরকর্মীর বেপরোয়া আচরণ ঘিরে বিতর্ক দুর্গাপুরে
দুর্গাপুরে ‘গান্ধীগিরি’ করল বিজেপি; ৭ দিনের আল্টিমেটাম, তারপর ‘ডিম থেরাপি’র হুঁশিয়ারি
মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান সুবোধ গোস্বামী অভিযোগ করে বলেন, “মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। যে শ্বেতপাথরের সিংহাসনটি ভাঙা হয়েছে, সেটি অত্যন্ত মূল্যবান। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের কোনও খোঁজ মিলছে না বলে দাবি স্থানীয়দের।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, “এই ঘটনার কথা আমরা নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশকে জানিয়েছি। অভিযুক্ত যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, পাতালে থাকলেও খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা হবে।” ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালাচ্ছে।

