দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ৫ অক্টোবর: সরকারি কর্মসূচিতে ছাগলের পিপিআর (PPR) টিকাকরণ করতে গিয়ে এক মহিলা প্রাণীমিত্রা কর্মীর উপর হামলা, হেনস্থা এবং তাঁর মোবাইল ও সরকারি কাজের সরঞ্জাম নষ্ট করার অভিযোগ উঠল জামুড়িয়ায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট কর্মীর নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি জানাল সারা বাংলা প্রাণীসেবী, প্রাণীবন্ধু, প্রাণীমিত্রা এআই ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন।
সংগঠনের অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জামুড়িয়া ব্লকের শ্যামলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ছত্রিশগণ্ডা তিলকা পাড়ায় সরকারি নির্দেশ মেনে পিপিআর টিকাকরণ কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন নয়না গরাই নামে এক কর্মী। একটি বাড়িতে ছাগলের টিকাকরণের কাজ শেষ করার পর ভারত পশুধন পোর্টালে তথ্য নথিভুক্ত করার জন্য বাড়ির মালিক কাছে OTP চাওয়াকে কেন্দ্র করে বচসার সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ।
সংগঠনের দাবি, এরপর বাড়ির মালিক চিন্টু হেমব্রম নয়না গরাইকে ঘাড় ধরে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। বাড়ির এক মহিলা সদস্য তাঁর হাত মুচড়ে দেন এবং গলার ওড়না ধরে টানাটানি করে সেটি ছিঁড়ে দেন বলেও অভিযোগ। তাঁর মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলে দেওয়া এবং ভ্যাকসিন বহনের পাত্র ক্ষতিগ্রস্ত করারও অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কাজের জন্য ব্যবহৃত নথিপত্রের কিছু অংশ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি সংগঠনের। সংগঠনের দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক যুবক তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।
ঘটনার পর পরিচিত এক ব্যক্তির ফোন থেকে সংশ্লিষ্ট ব্লকের সমষ্টি প্রাণী-সম্পদ উন্নয়ন আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন নয়না গরাই। পরে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি বলে অভিযোগ। এরপর এক সহকর্মীর সঙ্গে স্থানীয় থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (GD) করেন তিনি। কিন্তু সেই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকজন তাঁকে ভয় দেখান এবং মানসিক চাপ তৈরি করেন বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত সেই GD প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন বলেও সংগঠনের দাবি।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সংগঠনের পক্ষ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর জামুড়িয়া ব্লকের সমষ্টি প্রাণী-সম্পদ উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, পশ্চিম বর্ধমানের প্রাণী-সম্পদ বিকাশ বিভাগের উপ-অধিকর্তার কাছেও লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের বক্তব্য, সরকারি নির্দেশ মেনে মাঠে কাজ করতে গিয়ে কোনও কর্মী যাতে একা এবং নিরাপত্তাহীন অবস্থায় আক্রান্ত না হন, তার জন্য প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। নয়না গরাই এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার দাবিও জানানো হয়েছে। সংগঠনের রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র মণ্ডল জানিয়েছেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কর্মরত মৈত্রী ও প্রাণীবন্ধু কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অভিযুক্তদের তরফে কোনও বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
(বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)


