দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে ডিএসপি টাউনশিপের আনন্দবিহার এলাকায় একটি কোয়ার্টার্স থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বস্তাবন্দি অবস্থায় সেখানে পাওয়া গিয়েছে কম্বল, ত্রিপল, ছাতা-সহ বিভিন্ন সামগ্রী। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে কিছু নথিপত্র, ভোটার কার্ড এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাগজপত্রও। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হলেও প্রশাসন এখন পুরো বিষয়টির সত্যতা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এদিন কয়েকজন ব্যক্তি ওই কোয়ার্টার্স থেকে কিছু জিনিসপত্র সরানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় বিষয়টি নজরে আসে বিজেপি কর্মীদের। তাঁদের অভিযোগ, কাছে যেতেই ওই ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে কোয়ার্টার্সের ভিতরে ঢুকে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোয়ার্টার্সটি সিল করে দেয় এবং তদন্ত শুরু করে। উদ্ধার হওয়া কিছু কম্বলের প্যাকেটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি এবং প্রাক্তন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের নাম দেখা গিয়েছে। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মজুত রাখা হয়েছিল এবং প্রয়োজনমতো মানুষের হাতে পৌঁছয়নি। তাঁদের বক্তব্য, প্রকৃত উপভোক্তাদের বঞ্চিত করে এই সামগ্রী গুদামজাত করে রাখা হয়েছিল।
তবে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি প্রশাসন। পুলিশ জানিয়েছে, কোয়ার্টার্সটি কার নামে বরাদ্দ রয়েছে, তা জানতে ডিএসপি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেই তথ্য হাতে এলেই জানা যাবে কে বা কারা ওই জায়গাটি ব্যবহার করছিলেন এবং কীভাবে সেখানে এত পরিমাণ সামগ্রী জমা হয়েছিল।
তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি প্রশাসনের তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে তারা আগ্রহী নয়। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলির প্রকৃত উৎস কী, কেন সেগুলি সেখানে রাখা হয়েছিল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত— সেই উত্তরই এখন খুঁজছে প্রশাসন।