
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার সমাধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরলেন দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুর্গাপুরে পাঁচটি জেলাকে নিয়ে আয়োজিত পুরসভা সংক্রান্ত প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত থেকে তিনি পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-এর কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও প্রস্তাব পেশ করেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে, গৃহস্থালির ক্ষেত্রে জলকর (Water Tax) আদায় বন্ধ করার দাবি জানান বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ পরিবারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না করে ডোমেস্টিক বা আবাসিক ক্ষেত্রে জলকর প্রত্যাহারের বিষয়টি সরকারের বিবেচনা করা উচিত। চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাণিজ্যিক বা কমার্সিয়াল ক্ষেত্রে জল ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট হারে মূল্য নেওয়া অবশ্যই উচিত। তবে সাধারণ গৃহস্থদের ক্ষেত্রে জলকর নেওয়া বন্ধ করার জন্য তিনি মন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আর্জি জানিয়েছেন।
বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন বিধায়ক। তিনি জানান, দুর্গাপুরের গোপালমাঠ, ঝাণ্ডাবাগ, আমরাই-সহ একাধিক এলাকায় বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও তাঁদের বাড়ির কোনও অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান নেই। ফলে নানা প্রশাসনিক ও আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
বিধায়কের দাবি, পুরসভার পক্ষ থেকে ওই সমস্ত বাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হলে বাসিন্দারা আইনি স্বীকৃতি পাবেন। একই সঙ্গে তাঁরা নিজেদের সম্পত্তির ভিত্তিতে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে সহজে ঋণও নিতে পারবেন।
তিনি বলেন, “মানুষ নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন। বাড়ির নথিপত্র বৈধ হলে ব্যাঙ্ক ঋণ পাওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি পুরসভাও নিয়মিত রাজস্ব আদায় করতে পারবে। ফলে বাসিন্দা ও প্রশাসন— উভয়েরই লাভ হবে।”
মঙ্গলবারের প্রশাসনিক বৈঠকে পাঁচ জেলার পুরসভা ও নগরোন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকে দুর্গাপুরের নাগরিক সমস্যাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন বিধায়ক। তাঁর আশা, মন্ত্রী বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন এবং ভবিষ্যতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই দুই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুরের হাজার হাজার পরিবারের উপকার হবে বলে মনে করছে স্থানীয় মহল।

