
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: একটি স্কুল, যেখানে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা ও মূল্যবোধের পাঠ দেওয়ার কথা, সেই স্কুলেরই শিক্ষক-প্রধানশিক্ষক সংঘাতকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের নডিহা হাইস্কুল (উচ্চ মাধ্যমিক)-এ এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধানশিক্ষকের উপর অস্ত্র নিয়ে চড়াও হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
স্কুলের প্রধানশিক্ষক অরুণ কুমার মাজি কোকওভেন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক কালু রাজ ঘোষের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্কুল ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ জুন সকালে স্কুলের অফিসকক্ষে শিক্ষকদের বিভিন্ন সরকারি ও পরিষেবাগত সুবিধা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছিল। পাশাপাশি চাকরির অবশিষ্ট সময় সম্পর্কিত একটি ফর্মও পূরণ করা হচ্ছিল। সেই সময় অন্যান্য শিক্ষকরা ফর্ম জমা দিলেও কালু রাজ ঘোষ তা পূরণ করতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ।
প্রধানশিক্ষকের দাবি, তিনি বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করলে দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, এক পর্যায়ে কালু রাজ তাঁকে ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আচমকা ওই ঘটনায় হতচকিত হয়ে প্রধানশিক্ষক তাঁকে থামাতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অরুণবাবুর অভিযোগ, সেই সময় কালু রাজ একটি বঁটি হাতে নিয়ে তাঁর দিকে তেড়ে আসেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন। স্কুলের অন্য শিক্ষকরা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল না দিলে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারত বলে দাবি তাঁর। আরও অভিযোগ, পরে একটি কাঁচি নিয়েও তিনি আক্রমণের চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কিত প্রধানশিক্ষক স্কুলে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “স্কুলের পরিবেশে এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি এবং অন্যান্য শিক্ষকরা মানসিকভাবে চাপে রয়েছি।”
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, যে বঁটি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেটি স্কুলের এক চতুর্থ শ্রেণির মহিলা কর্মী ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করতেন এবং অফিসের কাছেই রাখা ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “আমরা সময়মতো হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। ওই শিক্ষকের এমন আচরণ এর আগেও দেখা গিয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ।”
দুর্গাপুরে অগ্নিমিত্রার বড় ঘোষণা! পুরসভার দুর্নীতিতে কড়া ব্যবস্থা
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে গালিগালাজ, হেনস্থা এবং খুনের চেষ্টার মতো একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যে স্কুলে গিয়ে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও কর্মীর সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার প্রকৃত সত্যতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। তবে স্কুলের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ সামনে আসায় শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় মহলের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

