
হাসপাতাল চত্বরে বাইকের চাকার হাওয়া খুলে দেওয়ার অভিযোগ
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ৮ আগস্ট: হাসপাতালে ভর্তি রোগীর জন্য জরুরি রক্তের ব্যবস্থা করতে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের বাইরে এসে দেখলেন, তাঁর বাইকের সামনের চাকার হাওয়া খুলে দেওয়া হয়েছে। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের মলানদিঘির একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
শনিবারের এই ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগের কেন্দ্রে হাসপাতালের এক বাউন্সার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের সামনে জমায়েত হন বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মীরা। বাউন্সারদের বিরুদ্ধে ‘দাদাগিরি’র অভিযোগ তুলে সরব হন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মলানদিঘি ফাঁড়ির পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত বিএমএসের জেলা সহ-সভাপতি প্রকাশ প্রসাদকে ঘিরে। জানা গিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীকে দেখতে শনিবার তিনি বাইক নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করেন। রোগীর চিকিৎসার জন্য রক্তের প্রয়োজন ছিল। সেই রক্ত আনতে তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে যেতে হত।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে নিজের বাইকের কাছে পৌঁছন প্রকাশ। কিন্তু বাইক চালু করতে গিয়ে তিনি দেখেন, সামনের চাকার হাওয়া নেই। অভিযোগ, হাসপাতালের এক বাউন্সার ইচ্ছাকৃতভাবে বাইকের চাকার হাওয়া খুলে দিয়েছেন।
রোগীর জন্য রক্ত জোগাড়ের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘিরেই ক্ষোভ ছড়ায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই হাসপাতালের সামনে বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মীদের ভিড় জমে যায়। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতাল চত্বরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাউন্সারদের একাংশ নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। রোগীর পরিবারের সদস্য বা তাঁদের পরিচিতদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর
শ্বাসনালীতে ঢুকে গেল ধারালো যন্ত্রাংশ, অস্ত্রোপচার ছাড়াই রোগীকে সুস্থ করল মিশন হাসপাতাল
বাউন্সারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সরব হন বিজেপি নেতৃত্ব। পরিস্থিতির খবর পেয়ে মলানদিঘি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঠিক কী কারণে প্রকাশ প্রসাদের বাইকের সামনের চাকার হাওয়া খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং এর সঙ্গে হাসপাতালের কোনও কর্মী বা বাউন্সারের ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এর মধ্যেই রোগীর জন্য রক্ত আনার বিষয়টি যাতে আটকে না যায়, সেই ব্যবস্থা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রকাশ প্রসাদকে রক্ত সংগ্রহের জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়।
হাসপাতালের মতো জরুরি পরিষেবার জায়গায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের আচরণ নিয়ে এমন অভিযোগ সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। রোগী দেখতে আসা মানুষজনের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত, কোথায় নিরাপত্তা এবং কোথায় অযথা হয়রানি—এই সীমারেখা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। (বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)

