পরিবেশবান্ধব ও দূষণমুক্ত দুর্গাপুর গড়ে তোলার লক্ষ্যে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই চলছে একাধিক কর্মসূচি। ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫০ জন ‘বায়ুবীর’-এর মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় চালানো হয় ধারাবাহিক ডিজিটাল প্রচার। নির্মল বায়ুর প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় সেই প্রচারে।
এরপর ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিধাননগর সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাকক্ষে আয়োজিত হয় সচেতনতা শিবির। মহকুমার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেখানে যোগ দেন ৬৩ জন স্বেচ্ছাসেবী। নির্মল বায়ু, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন ১১ জন আলোচক।
সচেতনতার বার্তা এবার পৌঁছল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছেও। ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে ডিডিএ মার্কেটের হাট এলাকায় মাইক প্রচার চালানো হয়। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বৃক্ষরোপণ, গাছ সংরক্ষণ, বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করা, উৎসস্থলেই বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
পরিবেশকর্মী কবি ঘোষ বলেন, নির্মল বায়ু শুধু পরিবেশের বিষয় নয়। মানুষের স্বাস্থ্য, কর্মক্ষমতা, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘আমরা চাই নির্মল বাতাস’ আন্দোলনকে দুর্গাপুরের আরও বিভিন্ন এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব এবং যুবসমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
শুধু কয়েক দিনের কর্মসূচিতে থেমে থাকতে চাইছেন না আয়োজকরা। DSSCCS-এর পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ১০ হাজার পরিবারের কাছে সচেতনতামূলক প্রচারপত্র পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্মল বায়ুর গুরুত্বের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষার বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হবে ওই প্রচারপত্রের মাধ্যমে।
আয়োজকদের বক্তব্য, দূষণ নিয়ন্ত্রণ শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়। সাধারণ মানুষ, যুবসমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠন—সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণেই গড়ে উঠতে পারে পরিবেশবান্ধব দুর্গাপুর। তাই নির্মল বাতাসের এই উদ্যোগকে জনআন্দোলনের রূপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।