WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ৩ অক্টোবর: দুপুরে অফিসের রেস্টরুমে গিয়েছিলেন সাময়িক বিশ্রামের জন্য। সেখানেই তাঁকে খাবার দিয়ে গিয়েছিলেন সহকর্মীরা। তারপর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। ঘর থেকে আর বেরোননি। ফোন করেও মিলছিল না কোনও সাড়া। শেষ পর্যন্ত রাতের দিকে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে উদ্ধার করল সেচ দপ্তরের এক আধিকারিকের দেহ। শুক্রবারের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে।

মৃতের নাম অলোক দাস (৫২)। বাড়ি নদিয়ার কল্যাণীতে। কর্মসূত্রে দুর্গাপুরে থাকতেন তিনি। সেচ দপ্তরে জলকর সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা এই আধিকারিক শুক্রবার নির্দিষ্ট সময়েই অফিসে এসেছিলেন বলে দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। দুপুরে কাজের ফাঁকে নিজের রেস্টরুমে যান অলোকবাবু। সেখানে থাকার সময় খাবার চেয়েছিলেন তিনি। পরে কর্মীরা ঘরে গিয়ে তাঁকে খাবার দিয়ে আসেন। তার পর থেকেই বন্ধ ছিল ঘরের দরজা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বাইরে না আসায় প্রথমে বিষয়টি নিয়ে বিশেষ সন্দেহ হয়নি। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে রাত হলেও দরজা না খোলায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

দপ্তরের নিরাপত্তারক্ষীরা একাধিক বার ফোন করেন অলোকবাবুকে। কিন্তু ফোন ধরেননি তিনি। ঘরের ভিতর থেকেও কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি জানানো হয় দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের। শেষ পর্যন্ত কোকওভেন থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন্ধ দরজা খুলে ভিতরে ঢোকে। তখনই রেস্টরুমের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় অলোক দাসের দেহ দেখতে পাওয়া যায়। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

ঠিক কী কারণে এই মৃত্যু, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পুলিশ এখনও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি। কর্মক্ষেত্রে কোনও সমস্যা ছিল কি না, ব্যক্তিগত কোনও কারণ রয়েছে কি না—সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্য সামনে আসার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। দপ্তরের নিরাপত্তারক্ষী অরুণ যাদব বলেন, “দুপুরে খাবার দেওয়ার পর আর কোনও যোগাযোগ করা যায়নি। রাতে একাধিক বার ফোন করেছি, কিন্তু ফোন তোলেননি। পরে দেখা যায়, রেস্টরুমের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত দেহ। কী কারণে এমন হল, বুঝতে পারছি না। তবে ওঁকে দেখে সেরকম কিছু মনে হত না।”

আরও পড়ুন: ‘অযোগ্যরা টাকা পাচ্ছে, আমরা যোগ্যরা কেন বঞ্চিত?’

(বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)