
পুলিশের ভূমিকায় খুশি সাধারণ মানুষ
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ১০ আগস্ট: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালের আশপাশে হাসপাতালে আসা সাধারণ মানুষের জন্য গাড়ি রাখার জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ উঠছে। রাস্তার ধারে সরকারি জায়গা দখল করে কয়েকজন নিজেদের মতো করে খবরদারি চালাচ্ছেন—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চিকিৎসা করাতে আসা মানুষকে যদি গাড়ি রাখার জন্যও কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয়, তাহলে সেই পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। সোমবার এমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকল মিশন হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা।
অভিযোগ, রাস্তার ধারে থাকা সরকারি জায়গায় কয়েকজন কার্যত মৌরুসিপাট্টা জারি করে রেখেছেন। সেখানে কেউ গাড়ি রাখতে গেলেই তাঁদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। শুধু বাধা দেওয়াই নয়, অভিযোগ রয়েছে, গাড়ি রাখতে আসা মানুষজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করা হয়।
সোমবার হাসপাতালে এসেছিলেন এক মহিলা ও তাঁর স্বামী। তাঁরা রাস্তার ধারের ফাঁকা জায়গায় গাড়ি রাখতে গেলে কয়েকজন তাঁদের বাধা দেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, মহিলার সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের বচসা শুরু হয়ে যায়। তবে পিছিয়ে যাননি ওই মহিলা। প্রতিবাদ জানান তিনি। হাসপাতাল চত্বরে চিকিৎসার প্রয়োজনে আসা একজন সাধারণ নাগরিক কেন রাস্তার ধারের সরকারি জায়গায় গাড়ি রাখতে পারবেন না—সেই প্রশ্ন তুলতেই তুমুল বচসা শুরু হয়ে যায়। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে বিশেষ ভাবে সক্ষম স্কুলছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ পুলকার চালকদের বিরুদ্ধে
শ্বাসনালীতে ঢুকে গেল ধারালো যন্ত্রাংশ, অস্ত্রোপচার ছাড়াই রোগীকে সুস্থ করল মিশন হাসপাতাল
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। সব শুনে পুলিশ জানিয়ে দেয়, বেআইনি দখলদারি বা কোনও ধরনের ‘সিন্ডিকেট’ বরদাস্ত করা হবে না। সিন্ডিকেট করলে মেরে চামড়া তুলে নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দেয় পুলিশ। পুলিশের তরফে অভিযুক্তদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, সরকারি জায়গা নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। সাধারণ মানুষকে সেখানে গাড়ি রাখতে বাধা দেওয়া বা কোনওরকম জোরজবরদস্তি করা হলে ভবিষ্যতে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। মহিলার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছিল, তার জন্য তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেয় পুলিশ।
পুলিশের এই তৎপরতায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মানুষ এবং হাসপাতালমুখী সাধারণ নাগরিকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, হাসপাতালে কেউ নিজের শখে যান না। কেউ যান চিকিৎসার জন্য, কেউ অসুস্থ পরিজনকে নিয়ে, আবার কেউ জরুরি প্রয়োজনে। সেই অবস্থায় হাসপাতালের সামনে গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে যদি কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের ‘কর্তৃত্ব’ দেখাতে শুরু করে, তাহলে সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষই। (বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)

