WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

ক্ষোভে ফুঁসছে দুর্গাপুরের মহানন্দা কলোনি

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে ডিম ছোড়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে দেখা গেল একেবারেই অন্য ছবি। ডিম ছুড়ে নয়, বরং ডিমের ওমলেট খাইয়ে প্রতিবাদের অভিনব নজির গড়লেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

ঘটনাটি দুর্গাপুরের মহানন্দা কলোনি এলাকার। অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে সরকারি জমির পাট্টা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, সেই সময় এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার শিপুল সাহা ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে এই টাকা তোলা হয়। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও জমির পাট্টা তো মেলেইনি, ফেরত মেলেনি টাকাও।

শনিবার রাতে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার এক শিক্ষকের বাড়ি থেকে ব্যাগভর্তি পাট্টার আবেদনপত্র উদ্ধার হয়। অভিযোগ, ভোটের ফল প্রকাশের পর পরিস্থিতি বেগতিক বুঝেই ওই নথিপত্র সেখানে রেখে যাওয়া হয়েছিল। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মানুষ।

প্রতিবাদকারীরা হাতে পাট্টার ফর্ম, ঝাঁটা এবং বিভিন্ন প্রতীকী সামগ্রী নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন। প্রাক্তন কাউন্সিলার শিপুল সাহাকে এলাকায় না পেয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সুকুমার চক্রবর্তীকে ডেকে পাঠানো হয়।

এরপরই দেখা যায় অভিনব প্রতিবাদের ছবি। সাধারণত ডিম ছুড়ে ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা দেখা গেলেও মহানন্দা কলোনির বাসিন্দারা অন্য পথ বেছে নেন। তাঁরা সুকুমার চক্রবর্তীকে ডিমের ওমলেট খাইয়ে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘জামাই আদর’ করেন এবং জমির পাট্টার নামে সংগৃহীত টাকার হিসাব জানতে চান।

স্থানীয়দের প্রশ্ন ছিল স্পষ্ট— মানুষের কাছ থেকে নেওয়া সেই হাজার হাজার টাকা কোথায় গেল? কেন এখনও পর্যন্ত জমির পাট্টা পেলেন না আবেদনকারীরা? এই প্রশ্নের জবাবে সুকুমার চক্রবর্তীর দাবি, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য শিপুল সাহাই দিতে পারবেন। আবেদনপত্র, টাকা সব পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল তাঁর অফিসেই।

শিপুল সাহার ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি। বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, “তৃণমূলের নেতারা যত রকম ভাবে পেরেছেন মানুষের টাকা লুঠ করেছেন। পাট্টা দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই। স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করুন। পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক।”