
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: গত ৫ জুন পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের Dr. B. C. Roy Engineering College (BCREC) এর ক্রীড়া ও গেমস কমিটির উদ্যোগে এক অনন্য উদ্দীপনা ও আন্তরিকতার আবহে ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬’ পালন করা হয়। দিনটি উপলক্ষে কলেজের আলবার্ট আইনস্টাইন সেমিনার হলে ‘আন্তঃ-কলেজ যোগাসন প্রতিযোগিতা ২০২৬’ এর আয়োজন করা হয়। চারটি কলেজের মোট প্রায় ১০০ ছাত্র ছাত্রী প্রতিযোগিতায় যোগ দেয়।
এবারের অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ‘Yoga for Harmony, Health & Excellence’, অর্থাৎ সামঞ্জস্য, স্বাস্থ্য ও উৎকর্ষের জন্য যোগব্যায়াম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজ সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ জার্নেল সিং, সহকারী সচিব রীতা সিং, সদস্য জয়িত্রী শিকদার ঘোষ ও ড. অঙ্কিতা মিত্র। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন Dr. B. C. Roy Engineering College-এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সঞ্জয় এস. পাওয়ার এবং Dr. B. C. Roy Polytechnic College-এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অরিজিৎ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
দিনটির সূচনা হয় শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে। এরপর ‘আন্তঃ-কলেজ যোগাসন প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সন্দীপ মুখোপাধ্যায় স্বাগত ভাষণে যোগব্যায়ামের বহুমাত্রিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজকের দ্রুতগতির জীবনে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্থিরতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলতেও যোগব্যায়ামের ভূমিকা অপরিসীম।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সঞ্জয় এস. পাওয়ার তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে যোগচর্চা অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “শরীর আমাদের প্রকৃত সম্পদ। সেই সম্পদকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজন সচেতন জীবনযাপন ও নিয়মিত যোগব্যায়াম।
এবারের আন্তঃ-কলেজ যোগাসন প্রতিযোগিতায় চারটি কলেজের প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগীদের উৎসাহ, শৃঙ্খলা ও দক্ষ পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা ফিজিক্যাল কালচার অ্যাসোসিয়েশনের অভিজ্ঞ যোগব্যায়াম বিশেষজ্ঞ— জাতীয় বিচারক বিকাশ গড়াই, রাজ্য পর্যায়ের বিচারক স্বাতী ভট্টাচার্য, জেলা পর্যায়ের বিচারক বৈশাখী মুখোপাধ্যায়, জয়দেব চক্রবর্তী ও ভৈরব ধীবর।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘চ্যাম্পিয়ন অফ চ্যাম্পিয়নস’ সম্মান। এই সম্মান অর্জন করেন বিবিএ বিভাগের তৃষ্ণা ঘোষ এবং শুভম কুমার সিং। তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কোষাধ্যক্ষ জার্নেল সিং। তিনি বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও আরও শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
পুরস্কার বিতরণী ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হলেও, যোগব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ ও ইতিবাচক জীবন গড়ে তোলার যে বার্তা এই আয়োজন তুলে ধরল, তা অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের মনে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা জোগাবে। শুধু সুস্থতার বার্তাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এদিনের অনুষ্ঠান। পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয় একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও। যোগ ও প্রকৃতির এই মেলবন্ধন অনুষ্ঠানে এক বিশেষ তাৎপর্য যোগ করে।

