WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: এবার আরও কড়া হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা বিধি। বাড়ির বর্জ্য শুকনো ও ভিজে আলাদা করে না রাখলে তা সংগ্রহ করা হবে না, আর রাস্তাঘাটে নোংরা ফেললে বা থুতু ছিটালেই গুনতে হতে পারে মোটা অঙ্কের জরিমানা। মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ডে বিশেষ সাফাই অভিযানে অংশ নিয়ে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

মন্ত্রী জানান, আগামী ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তারকেশ্বর সফরকে সামনে রেখে ১৫ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এদিন দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ডে ঝাঁটা হাতে নেমে পড়েন তিনি। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক পন্নমবলম এস, পুর কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম-সহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। নির্মল বন্ধু ও নির্মল সাথীদের সঙ্গে নিয়ে বাসস্ট্যান্ড চত্বর পরিষ্কারের কাজে অংশ নেন মন্ত্রী।

এই কর্মসূচি থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শুধু পুরসভার কর্মীদের নয়, নাগরিকদেরও। তাঁর কথায়, “সব কাজ নির্মল বন্ধু বা নির্মল সাথীরা করবেন, এই মানসিকতা বদলাতে হবে। যেখানে সেখানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।” আগামী এক সপ্তাহ ধরে নির্মল সাথী ও নির্মল বন্ধুরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সচেতন করবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। এরপরও কেউ নিয়ম না মানলে সেই বাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে না। এমনকি কেউ যদি আলাদা না করে অন্যত্র বর্জ্য ফেলে দেন, সেক্ষেত্রেও নজরদারি চালিয়ে জরিমানার ব্যবস্থা করা হবে।

সবচেয়ে বড় ঘোষণা এসেছে রাস্তাঘাট নোংরা করা নিয়ে। মন্ত্রীর দাবি, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকাশ্যে থুতু ফেলা, পানের পিক ছিটানো কিংবা চিপসের প্যাকেট, ডাবের খোলা-সহ যেকোনও ধরনের বর্জ্য রাস্তায় ফেললেই ন্যূনতম ৮০০ টাকা জরিমানা করা হবে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, নিয়মভঙ্গকারীদের চিহ্নিত করা হবে কীভাবে? এর উত্তরে মন্ত্রী জানান, সাধারণ নজরদারির পাশাপাশি প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়াও তিনি জানান, খুব শীঘ্রই পুর সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে চালু হতে চলেছে একটি বিশেষ হেল্পলাইন। রাজ্যের যে কোনও প্রান্তের মানুষ ওই নম্বরে ফোন করে পুরসভার বিভিন্ন সমস্যা জানাতে পারবেন এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিচ্ছন্ন শহরের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে নাগরিকদের আচরণ বদলের উপরই। প্রশাসনের কড়াকড়ির পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ। কারণ, একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে ওঠে শুধু ঝাঁটা হাতে নয়, অভ্যাসের পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও।