WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now
CODES-2026

জরুরি মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্তই বাঁচাতে পারে জীবন, সেই বার্তাই দিল ‘কোডস ২০২৬’

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: দুর্ঘটনা, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা অন্য কোনও সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রথম কয়েক মিনিটের সঠিক চিকিৎসাই একজন মানুষের জীবন-মৃত্যুর ফারাক গড়ে দিতে পারে। সেই বাস্তবতাকেই সামনে রেখে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও দক্ষ ও আধুনিক করে তোলার লক্ষ্যে শনিবার পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতাল আয়োজন করল একদিনের আন্তর্জাতিক অ্যাকাডেমিক সম্মেলন ‘কোডস ২০২৬’ (CODES 2026)। সিটি সেন্টারের একটি বেসরকারি হোটেলে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

‘Ready to Respond, Ready to Save’—এই মূল বার্তাকে সামনে রেখে আয়োজিত সম্মেলনে দেশের পাশাপাশি বিদেশের খ্যাতনামা জরুরি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা তাঁদের অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং সমন্বিত দলগত প্রয়াস কীভাবে রোগীর প্রাণ বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, তা তুলে ধরা হয়।

এই সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ২৫০ জন চিকিৎসক অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে সরকারি হাসপাতাল, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসকদের জন্য ‘কোডস ২০২৬’ শুধু একটি সেমিনার নয়, বরং অভিজ্ঞতা বিনিময়, নতুন চিকিৎসা-জ্ঞান অর্জন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে ওঠে।

অস্ত্রোপচার ছাড়াই জটিল হৃদরোগের উপশম, চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত দুর্গাপুরে

সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞরা ট্রমা কেয়ার, ক্রিটিক্যাল কেয়ার, হৃদরোগজনিত জরুরি অবস্থা, সেপসিসের চিকিৎসা, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের যথাযথ ব্যবহার এবং জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসার গুণগত মান এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে জরুরি পরিষেবা আরও উন্নত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকদের বক্তব্য, ‘Ready to Respond, Ready to Save’ শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং প্রতিটি স্বাস্থ্যকর্মীর দায়িত্ববোধ, প্রস্তুতি এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলার অঙ্গীকারের প্রতীক। নিয়মিত এই ধরনের সম্মেলন চিকিৎসকদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক মানোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মাত্র ৬৫০ গ্রাম ওজন নিয়ে জন্ম, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল নবজাতক

দিনভর আলোচনা, মতবিনিময় এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘কোডস ২০২৬’। অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকেরা জানান, এই সম্মেলন থেকে অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে জরুরি পরিস্থিতির রোগীদের আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।জরুরি স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর, আধুনিক এবং মানবিক করে তুলতে এমন উদ্যোগ সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

‘CODES 2026’-এর সফল আয়োজন আবারও প্রমাণ করল, উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের পাশাপাশি চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিক জ্ঞানচর্চার প্রসারে মিশন হাসপাতাল সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।