WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ২১ সেপ্টেম্বর: পাঠ্যবই থেকে আহরিত জ্ঞানকে এবার বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগানোর পালা। সেই লক্ষ্যেই পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ড. বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (BCREC) অনুষ্ঠিত হল দু’দিনের ‘স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন (SIH) ইন্টারনাল হ্যাকাথন ২০২৬’। প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা এবং দলগত ভূমিকাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় কলেজের বিভিন্ন বিভাগের ৮৬টি ছাত্রদল অংশ নেয়।

শুধু নতুন কোনও আইডিয়া তৈরি করাই নয়, সেই আইডিয়া বাস্তবে কতটা কার্যকর হতে পারে—হ্যাকাথনে গুরুত্ব দেওয়া হয় তার উপরও। অংশগ্রহণকারী দলগুলি বাস্তব জীবনের নানা সমস্যা চিহ্নিত করে তার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের প্রস্তাব দেয়। সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার তৈরি, সমস্যা বিশ্লেষণ, প্রোটোটাইপ পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞদের সামনে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরা—সব মিলিয়ে পড়ুয়াদের কাছে এটি হয়ে ওঠে বাস্তব অভিজ্ঞতার একটি বড় মঞ্চ।হ্যাকাথনে অংশ নেওয়া ৮৬টি দল তাদের পরিকল্পনা ও প্রস্তাবিত সমাধান মূল্যায়ন প্যানেলের সামনে তুলে ধরে। এরপর বিস্তারিত মূল্যায়নের মাধ্যমে ৫০টি দলকে বাছাই করা হয়। এর মধ্যে ৪৫টি দল চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে এবং আরও ৫টি দলকে রাখা হয়েছে অপেক্ষমান তালিকায়। এই বাছাই প্রক্রিয়ায় ছিলেন মোট ১৬ জন বিচারক। সমস্যা সম্পর্কে দলের বোঝাপড়া, আইডিয়ার মৌলিকত্ব, প্রযুক্তিগত পদ্ধতি, বাস্তবায়নের সম্ভাবনা, ভবিষ্যতে প্রকল্পটি কতটা সম্প্রসারণ করা সম্ভব এবং উপস্থাপনার মান—সহ নানাদিক খতিয়ে দেখে মূল্যায়ন করা হয়।উদ্ভাবনী ভাবনা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা, দলগত কাজ এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সেরা চার দলকে নগদ পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে এই আয়োজনের গুরুত্ব শুধু পুরস্কার বা বাছাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শ্রেণিকক্ষের বাইরে বেরিয়ে বাস্তব সমস্যাকে সামনে রেখে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন পড়ুয়ারা। নিজেদের একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা, দলের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া, সময়ের মধ্যে সমাধান তৈরি করা এবং বিশেষজ্ঞদের সামনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তা তুলে ধরার অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: আকাশ থেকেই নেভাবে আগুন! BCREC-এর পড়ুয়াদের উদ্ভাবন নিয়ে চলছে জোর চর্চা

বিশেষ করে বিভিন্ন বিভাগের পড়ুয়াদের একসঙ্গে অংশগ্রহণ আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতার দিকটিও সামনে এনেছে। প্রযুক্তির পাশাপাশি সমস্যা বিশ্লেষণ, নেতৃত্ব, যোগাযোগ এবং উদ্যোক্তা-সুলভ মানসিকতার বিকাশেও এই হ্যাকাথন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ড. বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ ড. কে. এম. হোসেনের নির্দেশনা ও নেতৃত্বে এবং রেজিস্ট্রার ড. জি. এস. পান্ডার সহায়তা ও তত্ত্বাবধানে এই হ্যাকাথন আয়োজিত হয়। পুরো কর্মসূচির সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন SIH ২০২৬-এর SPOC মহম্মদ কেরামত হোসেন মন্ডল। কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. দীনেশ কুমার প্রধান।