
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: আসন্ন রাজ্য বাজেটের আগে দক্ষিণবঙ্গের শিল্পমহলের প্রত্যাশা ও সমস্যার কথা সরাসরি শুনতে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে অনুষ্ঠিত হল এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-বাজেট বৈঠক। রবিবার সিটি সেন্টারের একটি হোটেলে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পন্নমবলম এস-সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিক।
পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর—এই সাত জেলার শিল্পোদ্যোগীরা বৈঠকে অংশ নিয়ে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় উঠে আসে শিল্পের জন্য উপযুক্ত জমি প্রাপ্তির জটিলতা, বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন পেতে দীর্ঘসূত্রিতা এবং বিদ্যুতের উচ্চ মাশুলের মতো একাধিক বিষয়।
শিল্পমহলের প্রতিনিধিরা সরকারের কাছে জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য কার্যকর ‘ওয়ান-স্টপ’ বা এক জানলা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন শিল্প-সহায়ক ইনসেনটিভ প্রকল্প পুনরায় চালু করা এবং রাস্তা, সেতু-সহ শিল্পাঞ্চলের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বহু শিল্পোদ্যোগীর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে জমি ও প্রশাসনিক অনুমোদন পেতে তাঁদের নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। তাই নতুন শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে প্রথমেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁরা মত প্রকাশ করেন।
নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, অতীতে শিল্প সম্মেলনের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও তার বাস্তব সুফল খুব একটা মেলেনি। তাঁর দাবি, পর্যাপ্ত জমি ব্যাঙ্ক না থাকা এবং অনুমোদনের ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগের কারণে বহু শিল্পোদ্যোগী সমস্যায় পড়েছেন। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি বদলাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, শিল্পবান্ধব বাজেট তৈরির জন্য উদ্যোক্তাদের মতামত জানা অত্যন্ত জরুরি। সেই উদ্দেশ্যেই এই ধরনের আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, কলকাতা বা শিলিগুড়ির বাইরে দুর্গাপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পনগরীর উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে আসন্ন বাজেটে ঠিক কী ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনও ইঙ্গিত দিতে চাননি।
শিল্পোদ্যোগীদের আশা, বৈঠকে উত্থাপিত দাবিগুলি গুরুত্ব পেলে দক্ষিণবঙ্গের শিল্পোন্নয়নে নতুন গতি আসতে পারে এবং দুর্গাপুর আবারও রাজ্যের অন্যতম প্রধান শিল্পকেন্দ্র হিসেবে নিজের অবস্থান ফিরে পাবে।

