
দুর্গাপুর দর্পণ, পানাগড়: বুধবার ভোরে পশ্চিম বর্ধমান জেলার পানাগড় শিল্প তালুক থেকে পানাগড় স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি মালগাড়ির চারটি বগি ১০৩ নম্বর রেলগেটের কাছে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। ঘটনায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও, কয়েক ঘণ্টার জন্য থমকে যায় এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোরবেলায় মালগাড়িটি শিল্পাঞ্চল থেকে স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় আচমকাই বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে দেখা যায়, মালগাড়ির পরপর চারটি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে গিয়েছে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
লাইনচ্যুত বগিগুলির কারণে ১০৩ নম্বর রেলগেট দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে কর্মস্থলে যাওয়া শ্রমিক, সাধারণ মানুষ— সকলেই পড়েন চরম সমস্যায়। বিকল্প রাস্তা ধরে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন তাঁরা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলের আধিকারিকেরা। শুরু হয় উদ্ধার ও মেরামতির কাজ। বিশেষ যন্ত্রপাতির সাহায্যে লাইনচ্যুত বগিগুলিকে সরিয়ে রেললাইন মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় দু’ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় পারাপার ব্যবস্থা।
রেনোভেশনের আড়ালে কি সরে যাচ্ছে ‘ঠেক’? সিটি রেসিডেন্সির রেস্তোঁরা ঘিরে বিতর্ক
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এই দুর্ঘটনার জেরে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে রেললাইনের ক্ষতি হয়েছে। কী কারণে মালগাড়ির বগিগুলি লাইনচ্যুত হল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। তবে ভোরের এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা ফের একবার রেল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। সাধারণ মানুষের একটাই দাবি— এমন ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক রেল প্রশাসন।

