
নিজেদের আলো জ্বালিয়ে গ্রিডেও বিদ্যুৎ পাঠাচ্ছে স্কুল!
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের একটি স্কুল শুধু নিজের বিদ্যুতের চাহিদাই মেটাচ্ছে না, বরং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে পাঠিয়ে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। সৌরশক্তির ব্যবহারে বছরের পর বছর কার্যত শূন্য বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ফেলেছে সগড়ভাঙা হাইস্কুল।
স্কুলের ছাদজুড়ে বসানো সৌর প্যানেল থেকেই প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ। সেই বিদ্যুতে চলছে শ্রেণিকক্ষের আলো-পাখা, গ্রন্থাগার, গবেষণাগার, শিক্ষকদের কক্ষ এবং সিসি ক্যামেরা। রাতের অন্ধকারে স্কুল চত্বর আলোকিত রাখতে জ্বলে থাকে একাধিক হ্যালোজেন বাতিও। এত কিছুর পরেও প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ ইউনিট বিদ্যুৎ অতিরিক্ত থেকে যাচ্ছে, যা সরাসরি গ্রিডে পাঠানো হচ্ছে।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উন্নয়ন সংস্থা (ওয়েবরেডা) স্কুলে প্রথম ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে। পরে ২০২২ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজীব চট্টোপাধ্যায় আরও একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। তাঁর প্রচেষ্টায় পরিবেশ দফতরের আর্থিক সহায়তায় এবং রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের উদ্যোগে ২০২৫ সালে আরও ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হয়।
বর্তমানে প্রায় ৪৫টি ঘরবিশিষ্ট এই স্কুলের প্রতিটি কক্ষে একাধিক পাখা ও আলো নিয়মিত ব্যবহার হয়। তবুও বিদ্যুৎ খরচের জন্য আলাদা করে প্রায় কোনও ব্যয় করতে হয় না। দীর্ঘদিন মিটার বিকল থাকায় উৎপাদন ও রফতানির সঠিক হিসাব জানা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন মিটার বসানোর পর গত দেড় মাসে দেখা গেছে, প্রায় ৬৬৪ ইউনিট বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে।
বিজ্ঞানের বিশ্বমঞ্চে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করল দুর্গাপুরের কিশোর
প্রধান শিক্ষক রাজীব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এত বড় স্কুল ভবনে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রচলিত উপায়ে এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গেলে বিপুল কার্বন নিঃসরণ হতো। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে সেই নির্গমন প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” দুর্গাপুরের এই স্কুল দেখিয়ে দিয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পড়াশোনার কেন্দ্র নয়— পরিবেশ সচেতনতা ও টেকসই উন্নয়নেরও উদাহরণ হতে পারে।

