
ভুল না গাফিলতি?
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের নিউটাউনশিপ থানার জেমুয়া সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিরুদ্ধে শনিবার সকালে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এক রোগীর হাতে এমন একটি ওষুধ তুলে দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল প্রায় এক মাস আগেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আসিলা বিবি দীর্ঘদিন ধরেই রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগছেন। শুক্রবার নিয়মমাফিক চিকিৎসার জন্য তিনি জেমুয়ার সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান। স্বাস্থ্যকর্মীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে ডায়াবেটিসের ওষুধ দেন। বাড়ি ফিরে তিনি একটি ট্যাবলেটও খেয়ে নেন।
ঘটনার মোড় ঘোরে এরপরে। কাজ থেকে ফিরে আসিলা বিবির স্বামী শেখ ইব্রাহিম অভ্যাসবশত ওষুধের প্যাকেট হাতে নিয়ে দেখতে শুরু করেন। তখনই চোখে পড়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য— ওষুধটির ব্যবহারযোগ্যতার সময়সীমা শেষ হয়েছে চলতি বছরের মে মাসে।
স্ত্রীর হাতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে উদ্বেগে পড়ে যান ইব্রাহিম। তাঁর আশঙ্কা ছিল, বিষয়টি নজরে না এলে হয়তো দিনের পর দিন ওই ওষুধ খাওয়া চলত, যার ফলে শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সকালে স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলার সঙ্গে সঙ্গেই রোগীর আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। ক্ষোভের সুরে তাঁদের প্রশ্ন ছিল, যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর গ্রামের অসংখ্য মানুষ নির্ভরশীল, সেখানে ওষুধ বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এত বড় অসাবধানতা কীভাবে ঘটতে পারে?
গ্রামবাসীদের একাংশের বক্তব্য, এলাকার অনেক মানুষ ওষুধের গায়ে লেখা তথ্য পড়তে বা বুঝতে পারেন না। ফলে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটে থাকলেও তা হয়তো কখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তাই ভবিষ্যতে যেন প্রতিটি ওষুধ দেওয়ার আগে তার মেয়াদ ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়, সেই দাবিও তোলেন তাঁরা।পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

