
অরণ্য সপ্তাহে সবুজের শপথও নিল পড়ুয়ারা
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: জয়-পরাজয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ধৈর্য, মনোযোগ, কৌশল আর দূরদর্শিতার শিক্ষা দেয় দাবা। সেই বার্তাকেই সামনে রেখে আন্তর্জাতিক দাবা দিবস উপলক্ষে সোমবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্ডাল হাইস্কুলে প্রথমবারের মতো দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পড়ুয়াদের মানসিক একাগ্রতা বাড়াতে খেলা শুরুর আগে করানো হয় মেডিটেশন। পাশাপাশি অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে পরিবেশ রক্ষার বার্তাও তুলে ধরেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
প্রতি বছর ২০ জুলাই আন্তর্জাতিক দাবা দিবস সারা বিশ্বে পালিত হয় দাবা খেলার প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে। সেই উপলক্ষে অন্ডাল হাইস্কুলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় মোট ২৮ জন পড়ুয়া, যার মধ্যে ২ জন ছাত্রী ছিলেন।
প্রতিযোগিতাকে আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অংশগ্রহণকারীদের দুটি বিভাগে ভাগ করা হয়। গ্রুপ–এ-তে ছিল পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ১৪ জন পড়ুয়া এবং গ্রুপ–বি-তে ছিল নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ১৪ জন।
প্রতিযোগিতার সূচনা হয় প্রতীকী দাবার চাল দিয়ে। গ্রুপ–এ-র উদ্বোধন করেন স্কুলের আইসিটি কম্পিউটার শিক্ষক সৌরভ সরকার এবং গ্রুপ–বি-র উদ্বোধন করেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুবীর মজুমদার।
তবে এই আয়োজনের অন্যতম বিশেষ দিক ছিল খেলা শুরুর আগে প্রতিযোগীদের মেডিটেশন করানো। স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, দাবা এমন একটি খেলা যেখানে শুধুমাত্র নিয়ম জানলেই হয় না, প্রয়োজন ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মনোযোগ এবং মানসিক স্থিরতা। সেই কারণেই প্রতিযোগিতা শুরুর আগে কয়েক মিনিটের ধ্যানের ব্যবস্থা করা হয়।
আরও পড়ুন: আসানসোল-দুর্গাপুর মেট্রো প্রকল্পের সমীক্ষার দায়িত্ব পেল ‘রাইটস’
দেড় লক্ষ শ্রমিকের মুখে হাসি ফেরালো রাজ্য সরকারের শ্রম দফতর
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশনের (FIDE) স্বীকৃত নিয়ম যথাসম্ভব মেনেই প্রতিযোগিতা পরিচালিত হয়, যাতে পড়ুয়ারা প্রতিযোগিতামূলক দাবার প্রকৃত পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুবীর মজুমদার জানান, এই প্রথম অন্ডাল হাইস্কুলে আন্তর্জাতিক দাবা দিবস উপলক্ষে এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রীকে দাবার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিন অরণ্য সপ্তাহের শেষদিন উপলক্ষে পড়ুয়াদের উদ্দেশে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। তিনি বলেন, “শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সেই গাছকে যত্ন করে বড় করে তোলাও আমাদের দায়িত্ব।” তাঁর এই বার্তায় সাড়া দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানো এবং তার পরিচর্যার শপথ নেয়।

