
বাম কর্মীদের বাধায় ফিরে গেল দিল্লি পুলিশ
দুর্গাপুর দর্পণ ডেস্ক: দিল্লিতে সিপিএমের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এ কে গোপালন ভবনে গিয়ে এসএফআইয়ের প্রাক্তন নেত্রী ঐশী ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা ঘিরে মঙ্গলবার বিকেলে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে উপস্থিত সিপিএম, এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই কর্মীদের বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ না করেই ফিরে যায় দিল্লি পুলিশের দল।
সূত্রের খবর, বর্তমানে দিল্লিতে ঐশী ঘোষ এ কে গোপালন ভবনে কাজ করছেন। মঙ্গলবার বিকেলে সেখানে পৌঁছে পুলিশ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে বাম কর্মী-সমর্থকরা আপত্তি জানান। ঘটনাস্থলে দলের একাধিক নেতা-কর্মী ও সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, পার্টি অফিসে এভাবে প্রবেশ করে জিজ্ঞাসাবাদ করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্প্রতি যন্তর মন্তরে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন ঐশী ঘোষ। সেই আন্দোলনে এসএফআইয়ের প্রতিনিধিত্বও ছিল উল্লেখযোগ্য। আন্দোলনের পরেই পুলিশের এই পদক্ষেপকে ঘিরে তাই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: সাতসকালে দুর্গাপুরে NIA-এর হানা! নিউ স্টিল পার্ক থেকে গ্রেফতার এক ব্যক্তি
আঙুল উঁচিয়ে হুঁশিয়ারি! পুরকর্মীর বেপরোয়া আচরণ ঘিরে বিতর্ক দুর্গাপুরে
ডিএসপি সমবায় ব্যাঙ্কে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি বিজেপি-র
তবে দিল্লি পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ বা আন্দোলনের সঙ্গে এই জিজ্ঞাসাবাদের কোনও সম্পর্ক নেই। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০১১ সালের একটি পুরনো মামলার তদন্তের সূত্রেই ঐশী ঘোষের সঙ্গে কথা বলতে চাওয়া হয়েছিল। বিক্ষোভ-সংক্রান্ত কোনও মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়নি বলেও দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
অন্যদিকে, সিপিএমের অভিযোগ, এটি নিছক তদন্ত নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। দলের দাবি, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের উপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাম নেতৃত্বের মতে, সাম্প্রতিক আন্দোলন ঘিরে যে সমঝোতার কথা হয়েছিল, তার পরিপন্থী বলেই এই ঘটনাকে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঐশী ঘোষকে ঘিরে পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এ ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে শুভ নয়।


