
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ২০ আগস্ট: বাইরে থেকে সবই স্বাভাবিক। কোথাও অতিথিদের আনাগোনা, কোথাও ব্যস্ত কর্মীরা নিজেদের কাজে ব্যস্ত। কিন্তু হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও দমকল আধিকারিকেরা পৌঁছতেই সামনে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর ছবি। কোথাও মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, কোথাও আবার ফায়ার সিস্টেম থাকলেও তা কার্যত অকেজো বলে অভিযোগ। এমনকি পাম্প হাউস আগাছায় ঢাকা এবং জল সরবরাহের পাইপলাইনও বেহাল অবস্থায় রয়েছে বলে দাবি দমকলের।
তারাপীঠে এবং কলকাতার নিউ মার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। সেই অভিযানের অংশ হিসাবেই বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারে একাধিক হোটেলে অভিযান চালায় পুলিশ ও দমকল।
পুরনো ও ঘিঞ্জি বেনাচিতি বাজারের সরু গলিতে পাশাপাশি রয়েছে বেশ কয়েকটি হোটেল। অভিযানে কয়েকটি হোটেলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। কোথাও আবার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলেও সেটি ঠিকমতো কাজ করছে না বলে আধিকারিকদের নজরে আসে। আগুন লাগলে দ্রুত জল সরবরাহ করার জন্য থাকা পাম্প হাউসের একাংশ আগাছায় ঢেকে রয়েছে বলেও অভিযোগ। পাশাপাশি জল সরবরাহের পাইপলাইনগুলির অবস্থাও সন্তোষজনক নয় বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে দুই সিভিক পুলিশ ভাইয়ের দাদাগিরি! রড দিয়ে মারধরের অভিযোগ প্রতিবেশীকে
সিন্দুক তুলে নিয়ে চম্পট, দুর্গাপুরে সোনার দোকানে দুঃসাহসিক চুরি
দমকলের বক্তব্য, আগুন লাগার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে শুধু যন্ত্রপাতি থাকলেই হবে না, সেগুলি কার্যকর অবস্থায় রয়েছে কি না, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিপদের সময় ব্যবস্থা কাজ না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
দুর্গাপুর দমকল বিভাগের স্টেশন অফিসার মনোজ কুমার দাস জানান, বেনাচিতি বাজারে যে হোটেলগুলিতে অভিযান চালানো হয়েছে, সেগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক সমস্যা সামনে এসেছে। দুর্গাপুরের এসিপি সুবীর রায় জানিয়েছেন, কোনও হোটেল প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে বা অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। (বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)


