

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (এডিডিএ)-কে ঘিরে জমি, রাস্তা ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিজেপির দুই বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই ও চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার এডিডিএ কার্যালয়ে গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁরা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এডিডিএ-কে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করেছেন আগের চেয়ারম্যান। সমস্ত অভিযোগের তদন্ত হবে বলেও জানান তাঁরা।
এদিনই দুর্গাপুর পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলী ভেঙে দিয়ে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পন্নমবলম এস-কে। একই সঙ্গে আপাতত এডিডিএ-র চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলাবেন তিনি। ফলে পুরসভা ও এডিডিএ— দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্থার দায়িত্ব এখন জেলাশাসকের কাঁধে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২১ মে দুর্গাপুরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকের আগে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এদিন এডিডিএ-তে যান দুই বিজেপি বিধায়ক। সেখানে সিইও অদিতি চৌধুরী সহ অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন তাঁরা। বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, “এডিডিএ-তে জমি নিয়ে নানা দুর্নীতি হয়েছে। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।” অন্যদিকে চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “আগের চেয়ারম্যান এডিডিএ-কে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করেছেন। রাস্তা, জমি সহ নানা বিষয়ে দুর্নীতি হয়েছে। সব কিছুর তদন্ত হবে।”
উল্লেখ্য, দুর্গাপুর পুরসভার বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয় ২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। তারপর থেকে প্রশাসকমণ্ডলীর মাধ্যমে পুরসভার কাজ চলছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় এবং ওয়ার্ডভিত্তিক জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তা ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটাতেই জেলাশাসকের হাতে সরাসরি দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।


