WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ১৬ সেপ্টেম্বর: শুধু পাঠ্যবই থেকে প্রযুক্তির জ্ঞান আহরণ নয়, বাস্তব সমস্যার সমাধানে কীভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো যায়—তারই নানা ভাবনা উঠে এল পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ডা. বি. সি. রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (BCREC)-এর ইঞ্জিনিয়ার্স ডে-র অনুষ্ঠানে। দিনটি উদযাপনে পোস্টার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতার থিম ছিল, ‘Engineering Excellence for a Sustainable and Technologically Sovereign India’। শিক্ষার্থীদের তৈরি পোস্টারে উঠে আসে টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা থেকে শুরু করে স্মার্ট শহর গড়ার নানা পরিকল্পনা।

ইঞ্জিনিয়ার্স ডে উপলক্ষে BCREC-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সহযোগিতায় ছিল ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স (ইন্ডিয়া)-এর দুর্গাপুর লোকাল সেন্টার, ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ আর্থকোয়েক টেকনোলজি এবং ইনস্টিটিউশন ইনোভেশন কাউন্সিল। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সেমিনার হলে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়।

ভারতের বিশিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার স্যার মোক্ষগুন্ডম বিশ্বেশ্বরাইয়ার জন্মদিনে প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ডে পালিত হয়। তাঁর প্রকৌশল ভাবনা ও দেশের উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনাকে সামনে আনা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান এবং BCREC-এর IQAC কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. সঞ্জয় সেনগুপ্ত। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির মৌলিক বিষয়গুলি আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

BCREC-এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কে. এম. হোসেন শিক্ষার্থীদের শুধু উত্তর খোঁজার পরিবর্তে প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করেন। বিশেষ করে ‘কী হবে যদি…’ ধরনের প্রশ্নের মাধ্যমে নতুনভাবে ভাবার অভ্যাস তৈরি করার বার্তা দেন তিনি।

প্রতিযোগিতায় BCREC এবং ডা. বি. সি. রায় পলিটেকনিকের প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। মোট ১২টি কারিগরি পোস্টার উপস্থাপন করা হয়। সেখানে উঠে আসে দেশের নিজস্ব প্রযুক্তি, ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগ সহনশীল নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব প্রকৌশল, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং স্মার্ট শহরের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির মতো বিষয়।

শুধু পোস্টার তৈরি করেই প্রতিযোগীদের দায়িত্ব শেষ হয়নি। নিজেদের ভাবনা ও প্রযুক্তিগত সমাধান বিশেষজ্ঞদের সামনে যুক্তি দিয়ে তুলে ধরতে হয়েছে।  বিশেষজ্ঞ হিসাবে উপস্থিত ছিলেন CSIR-CMERI-এর প্রিন্সিপাল টেকনিক্যাল অফিসার ইঞ্জিনিয়ার মনোজ কুমার বিসওয়াল, NIT দুর্গাপুরের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অধ্যাপক ড. সন্দীপ মণ্ডল এবং BCREC-এর অধ্যাপক ড. জয়ন্ত পাল ও অধ্যাপক ড. সৌরভ রঞ্জন দাস। প্রতিযোগিতায় ছয়টি দলকে নগদ পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের দলটি প্রথম স্থান অর্জন করে।

আরও পড়ুন- ‘ইয়ারি’: বন্ধুত্বের ছোঁয়ায় র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাসের অঙ্গীকার ড. বি. সি. রায় একাডেমিতে

তবে, প্রতিযোগিতার ফলাফলের বাইরেও শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভাবনা নিয়ে কাজ করার সুযোগকেই এই আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদেরও BCREC এবং IEI দুর্গাপুর লোকাল সেন্টারের পক্ষ থেকে বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

প্রযুক্তির পরিবর্তন যত দ্রুত হচ্ছে, ততই নতুন প্রজন্মের ইঞ্জিনিয়ারদের সামনে বাস্তব সমস্যার সমাধানের চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। সেই জায়গা থেকেই শিক্ষার্থীদের ভাবনা, প্রশ্ন এবং নতুন কিছু করার আগ্রহকে সামনে এনে ইঞ্জিনিয়ার্স ডে-র এই আয়োজন ভবিষ্যতের ইঞ্জিনিয়ারদের প্রস্তুতির একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে রইল বলে মনে করা হচ্ছে।