WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার শিল্পশহর দুর্গাপুরে সোমবার ডিএসপির জমি দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ভাঙা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ডিএসপি কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙে ফেলা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের দুটি পার্টি অফিস। তবে মহিস্কাপুরে সিটুর ‘সম্পর্ক ভবন’ ভাঙতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও মহিলা কর্মীদের প্রবল বাধার মুখে পড়ে অভিযান শেষ পর্যন্ত স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার সকালে ডিএসপি কর্তৃপক্ষ জেসিবি নিয়ে প্রথমে পৌঁছয় ডিএসপি টাউনশিপের মার্কনি এলাকায়। সঙ্গে ছিল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিযোগ, ডিএসপির মালিকানাধীন জমির উপর দীর্ঘদিন ধরে সেখানে একটি তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস গড়ে উঠেছিল। এদিন সেই পার্টি অফিসটি ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়। পরে সি-জোন এলাকায় অবস্থিত আরও একটি তৃণমূল পার্টি অফিসও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

দুই জায়গায় অভিযান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার পর প্রশাসনের নজর যায় মহিস্কাপুর এলাকার দিকে। সেখানে ডিএসপির জমিতে অবস্থিত সিটু পরিচালিত ‘সম্পর্ক ভবন’ ভাঙার প্রস্তুতি শুরু হতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় জড়ো হন বহু স্থানীয় বাসিন্দা, বিশেষ করে মহিলারা। সিটুর স্থানীয় নেতা সীমান্ত চ্যাটার্জীর নেতৃত্বে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভবনটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য নয়, এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গেও জড়িত। তাই হঠাৎ করে তা ভেঙে দেওয়া হলে বহু মানুষের অসুবিধা হবে।

সোনা পরিষ্কারের ফাঁদে সর্বস্বান্ত! দুর্গাপুরে অভিনব কায়দায় প্রতারণা

অন্যদিকে ডিএসপি কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, সংস্থার জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত যে কোনও কাঠামোর বিরুদ্ধেই সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, জমির আইনি অবস্থানই অভিযানের একমাত্র ভিত্তি। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বচসা চলে। যদিও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, তবুও আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত এদিনের জন্য উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত রাখে কর্তৃপক্ষ। ‘সম্পর্ক ভবন’ না ভেঙেই সেখান থেকে ফিরে যান ডিএসপির আধিকারিকেরা। তৃণমূলের দুটি পার্টি অফিস ভেঙে দেওয়া হল। অথচ সিটুর অফিস ভাঙা হল না। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।