
দুর্গাপুর দর্পণ ডেস্ক: তিনি সরকারি ইঞ্জিনিয়ার। তাঁর বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পত্তি করার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের ভিজিল্যান্স বিভাগের অভিযানে তাঁর বিভিন্ন ঠিকানা থেকে কোটি কোটি টাকা নগদ অর্থ, একাধিক বাড়ি, জমি এবং মূল্যবান সম্পদের সন্ধান মিলেছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযুক্ত বৈকুণ্ঠনাথ বেহরা বর্তমানে ওড়িশার কন্ধমল জেলার বালিগুড়া এলাকায় কর্মরত। ভিজিল্যান্স সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে পরিচিত আয়ের তুলনায় অসঙ্গত সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগ জমা পড়ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভুবনেশ্বর, জাজপুর, বালেশ্বর ও কন্ধমল জেলার একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, চাকরিজীবনের শুরুতে মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৬ হাজার টাকা। ১৯৯৯ সালে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগদান করার পর ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে সম্প্রতি অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার হয়েছেন তিনি। কিন্তু সরকারি বেতনের সঙ্গে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণের বিস্তর ফারাক দেখে বিস্মিত তদন্তকারীরাও।
ভিজিল্যান্সের দাবি, তল্লাশির সময় বিভিন্ন ব্যাঙ্ক লকার ও অন্যান্য সূত্র থেকে প্রায় ২ কোটি টাকার নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে প্রায় তিন লক্ষ টাকার অতিরিক্ত নগদ। এছাড়াও সোনা-রুপোর অলঙ্কার, বিলাসবহুল গাড়ি এবং একাধিক মূল্যবান নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ভুবনেশ্বরের নীলাদ্রি বিহার এলাকায় প্রায় ১০,৫০০ বর্গফুট আয়তনের একটি চারতলা বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ১৩টি জমির খোঁজ মিলেছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি ভুবনেশ্বরে এবং বাকিগুলি জাজপুর ও বারিপদা এলাকায় অবস্থিত।
এছাড়াও পাঁচটি বহুতল ভবনের মালিকানার তথ্য সামনে এসেছে বলে সূত্রের দাবি। সম্পত্তিগুলির প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ এবং সেগুলি কীভাবে অর্জিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ভিজিল্যান্স আধিকারিকদের মতে, এখনও তদন্ত শেষ হয়নি। অভিযুক্তের আরও সম্পত্তি বা বিনিয়োগের সন্ধানে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। বৈকুণ্ঠনাথ বেহরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সম্পদের উৎস এবং সম্ভাব্য বেনামি সম্পত্তির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় ওড়িশার প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে বিপুল সম্পত্তির এই অসঙ্গতি এখন ভিজিল্যান্স তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

