
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: ভোরের আলো ফোটার আগেই যাঁদের হাতে শহর পরিচ্ছন্ন হওয়ার কাজ শুরু হয়, দিনের শেষে সেই মানুষগুলোরই সংসারে নেমে আসে অনিশ্চয়তার অন্ধকার। দৈনিক মাত্র ২০২ টাকা মজুরিতে বছরের পর বছর কাজ করেও ন্যূনতম শ্রমিক-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার বিক্ষোভে সামিল হলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর পুরসভার ৩ নম্বর বরোর অস্থায়ী সাফাইকর্মীরা।
বরো কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে তাঁরা ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান বাজারদরে দৈনিক ২০২ টাকায় সংসার চালানো কার্যত অসম্ভব। তাই অবিলম্বে মজুরি বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা এবং শ্রমিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি তোলেন তাঁরা। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভকারী লালন বাউড়ির কথায়, “আমাদের কোনও সাপ্তাহিক ছুটি নেই। পিএফ নেই, ইএসআই নেই। অথচ প্রতিদিন শহর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আমাদের কাঁধে। সম কাজে সম বেতন চাই। আমাদেরও মর্যাদা নিয়ে বাঁচার অধিকার আছে।”
আর এক কর্মী অমরজিৎ লামা বলেন, “২০২ টাকায় আজকের দিনে সংসার চালানো যায় না। কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটলে নিজের টাকায় চিকিৎসা করাতে হয়। অসুস্থ হয়ে একদিন কাজে না এলে সেই দিনের মজুরিও কাটা যায়।”
গীতা মাহাতোর অভিযোগ, “রাস্তা থেকে মৃত কুকুর-বিড়াল সরানো থেকে শুরু করে নোংরা পরিষ্কার—সব ধরনের কাজই আমাদের করতে হয়। অথচ তার বিনিময়ে মাত্র ২০২ টাকা। মাসে মাত্র ২৪ দিন কাজ পাই। বয়স বাড়ছে, কিন্তু অবসরের পর কোনও আর্থিক নিরাপত্তা বা অনুদানও নেই।”
৩০ লক্ষ টাকার ফ্ল্যাট, তবু নেই পরিষেবা! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন আবাসিকরা
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ন্যায্য মজুরি, পিএফ, ইএসআই, সাপ্তাহিক ছুটি এবং অবসরকালীন আর্থিক সুরক্ষার মতো মৌলিক দাবিগুলি দ্রুত মেনে নেওয়ার জন্য পুর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান তাঁরা।
তাঁদের প্রশ্ন, যাঁদের হাত ধরে প্রতিদিন শহর পরিচ্ছন্ন থাকে, সেই শ্রমিকদের জীবনই যদি অনিশ্চয়তায় ভরা থাকে, তবে উন্নয়নের দাবি কতটা বাস্তব? এখন দেখার, অস্থায়ী সাফাইকর্মীদের এই দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও দাবির প্রতি প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।

