
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে বুধবার রাতটা ছিল অস্বস্তি, বিস্ময় আর উত্তেজনায় ভরা। ভোট পরবর্তী হিংসার একাধিক অভিযোগে তৃণমূলের দুর্গাপুর ১ নম্বর ব্লক সভাপতি রাজীব ঘোষকে আটক করল পুলিশ। ঘটনাস্থল— ডিএসপি টাউনশিপের তানসেন মার্কেটে বিজেপির পার্টি অফিস। আর সেখান থেকেই ওই তৃণমূল নেতার পুলিশের হাতে আটক হওয়া নিয়ে চলছে প্রবল রাজনৈতিক চর্চা।
বিজেপির দাবি, বুধবার রাতে রাজীব ঘোষ নিজেই বিজেপির দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কনভেনার সন্তোষ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে যান। এরপর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিজেপি কর্মীরা সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন। মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ‘চোর, চোর’ স্লোগানে কার্যত ঘিরে ফেলা হয় রাজীবকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বুঝে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ এসে তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়।
বিজেপির কর্মীদের অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এলাকায় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা, মারধর, বাড়িঘরে ভাঙচুর— একাধিক ঘটনায় রাজীব ঘোষের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের কথায়, “অনেক পরিবার আতঙ্কে ছিল। কেউ অভিযোগ করার সাহস পাননি। এখন মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছেন।” এক মহিলা বিজেপি কর্মী অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের দিন তানসেন রোড এলাকায় বিজেপির বুথ ক্যাম্পে ঢুকে রাজীব ঘোষ ও আরও কয়েকজন তাঁকে মারধর করে। তখন থানায় অভিযোগ জানানোর সাহস পাননি।
পুলিশ রাজীব ঘোষকে নিয়ে বি-জোন ফাঁড়িতে যায়। সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। বৃহস্পতিবার আদালতে তোলার সময়ও উত্তেজনা বজায় ছিল। আদালত চত্বরে জুতো হাতে নিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায় কয়েকজন বিজেপি নেতা কর্মীকে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই রাজীব ঘোষকে আদালতে নিয়ে যায় পুলিশ।
এই ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, “ক্ষমতার বাইরে এসে তৃণমূলের অনেকেই এখন আশ্রয় খুঁজছেন। কিন্তু বিজেপির সাধারণ কর্মীরা অতীতের অত্যাচার ভুলে যাননি।” তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে একটাই প্রশ্ন— কেন গভীর রাতে এক তৃণমূল নেতা বিজেপির পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপ, পুরনো অভিযোগের ভয় এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা— সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি!

