
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর শহরে অটোচালকদের নানা অনিয়ম নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত রুটের বাইরে যাতায়াত, অতিরিক্ত যাত্রী তোলা, ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করা, এমনকি অনুমতি ছাড়া অটোতে অতিরিক্ত আলো ও বিভিন্ন যন্ত্র লাগানোর মতো অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে শহরে শৃঙ্খলা ফেরাতে শনিবার বিশেষ ট্রাফিক সচেতনতামূলক অভিযান চালাল আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ট্রাফিক বিভাগ।
শনিবার দুর্গাপুরের ব্যস্ততম সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন অটোস্ট্যান্ডে এই অভিযান পরিচালনা করেন ট্রাফিক বিভাগের আধিকারিকরা। উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিক, ট্রাফিক কর্মী এবং সিভিক ভলেন্টিয়াররা। অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল অটোচালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করা এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
অভিযান চলাকালীন একে একে অটো থামিয়ে চালকদের রুট পারমিট, গাড়ির বৈধ কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স-সহ বিভিন্ন নথি পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের নির্ধারিত রুট মেনেই পরিষেবা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়ে দেয়, অনুমোদিত রুট ছেড়ে অন্য রুটে যাত্রী পরিবহণ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় অটোর বাহ্যিক পরিবর্তনের বিষয়েও। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, আঞ্চলিক পরিবহণ দফতর (আরটিও)-র অনুমতি ছাড়া অটোতে কোনও অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্র, হর্ন, এলইডি লাইট বা সাজসজ্জার সরঞ্জাম লাগানো যাবে না। বিশেষ করে নম্বর প্লেটের উপরে বা চারপাশে অতিরিক্ত আলো ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই ধরনের পরিবর্তন আইনবিরুদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ায় বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক আধিকারিকরা।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র সচেতনতামূলক অভিযানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না প্রশাসন। নিয়ম ভাঙার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট অটোচালকদের বিরুদ্ধে মোটরযান আইনে মামলা দায়ের, মোটা অঙ্কের জরিমানা এবং প্রয়োজন হলে অন্যান্য আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
চাকরির নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, দুর্গাপুরে আইএনটিটিইউসি ভবনের দখল নিল বিজেপি
লাদাখে ৬১০০ মিটার শৃঙ্গ জয়! মাউন্ট কাইগরের শিখরে দুর্গাপুরের কালীসাধন
দুর্গাপুরে ‘লোক কল্যাণ মেলা’- ছোট পুঁজিতে বড় স্বপ্নের হাতছানি
ট্রাফিক বিভাগের এক আধিকারিক জানান, দুর্গাপুরে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ অটো পরিষেবার উপর নির্ভরশীল। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত চালানো হবে। পাশাপাশি অটোচালকদেরও আইন মেনে পরিষেবা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক যাত্রী। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম বন্ধ করতে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।

