
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় মূলধনের অভাব। বিশেষ করে রাস্তার হকার, ফেরিওয়ালা বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে সামান্য কিছু টাকাই কখনও ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় ভরসা। সেই মানুষগুলির হাত শক্ত করতেই মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর পুরসভার সভাগৃহে আয়োজন করা হল লোক কল্যাণ মেলা।
এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পিএম স্বনিধি’ (PM SVANidhi) প্রকল্প। যেখানে শহরের হকার ও ফেরিওয়ালাদের সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। সকাল থেকেই পুরসভা চত্বরে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বহু মানুষ প্রয়োজনীয় নথি হাতে নিয়ে পৌঁছে যান নিজেদের ব্যবসার ভবিষ্যৎকে আরও মজবুত করার আশায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, দুর্গাপুর পুরসভার কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা। তাঁরা উপভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রকল্পের বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘পিএম স্বনিধি’ প্রকল্পে প্রায় ২৩ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১৩ হাজার আবেদনকারীর ঋণ মঞ্জুর করেছে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক। ফলে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছে নতুন করে ব্যবসা শুরু বা ব্যবসা বাড়ানোর পথ আরও সহজ হল।
এই প্রকল্পের বিশেষত্ব হল, এটি ধাপে ধাপে ব্যবসায়ীদের আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলে। প্রথম পর্যায়ে একজন উপভোক্তা ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পান। সেই ঋণ নিয়মিত শোধ করলে দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে দেওয়া হয় একটি বিশেষ ক্রেডিট কার্ড, যার মাধ্যমে ৪৫ দিন পর্যন্ত বিনা সুদে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। আর সফলভাবে ঋণ পরিশোধ করলে তৃতীয় পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।
ঘরে ফিরলেন বিশ্বজয়ী, অন্ডাল বিমানবন্দরে উষ্ণ সংবর্ধনা
পুরসভা কর্তৃপক্ষের মতে, এই প্রকল্প শুধু ঋণ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা, তাঁদের ব্যবসাকে স্থায়ী ভিত্তি দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।
যে মানুষগুলো প্রতিদিন রোদ-বৃষ্টি মাথায় করে শহরের অলিতে-গলিতে ব্যবসা করেন, তাঁদের জন্য এই প্রকল্প নিঃসন্দেহে নতুন আশার আলো। ছোট পুঁজি থেকে বড় স্বপ্ন— সেই পথেই আরও এক ধাপ এগোল দুর্গাপুরের হাজার হাজার হকার ও ফেরিওয়ালা।

