
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: আন্তর্জাতিক শুটিং অঙ্গনে ফের নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিল ভারত। জার্মানির সুহলে ১৬ থেকে ২৬ জুন অনুষ্ঠিত আইএসএসএফ জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে পদক তালিকার শীর্ষে শেষ করল ভারতীয় দল। প্রতিযোগিতায় মোট ২৫টি পদক জিতে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ভারতের তরুণ শুটাররা।
চ্যাম্পিয়নশিপে বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের শুটিং ফেডারেশনের ৮০০-রও বেশি প্রতিযোগী অংশ নেন। সেই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই ভারতীয় শুটাররা ধারাবাহিক সাফল্য তুলে এনে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে আরও একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় যোগ করেছেন।
ভারতের ঝুলিতে এসেছে ৭টি স্বর্ণ, ৮টি রৌপ্য এবং ১০টি ব্রোঞ্জ পদক। ব্যক্তিগত ও দলগত—দুই বিভাগেই ভারতীয় শুটারদের সাফল্য নজর কেড়েছে। ১০ মিটার এয়ার রাইফেল, ১০ মিটার এয়ার পিস্তল, ২৫ মিটার পিস্তল, ৫০ মিটার রাইফেল এবং শটগানের একাধিক ইভেন্টে ভারতীয়রা পদক জিতে দেশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন।
এই চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের অন্যতম বড় সাফল্য আসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল মিক্সড টিম ইভেন্টে। অভিনব সাউ ও শম্ভবী শ্রবণ ক্ষীরসাগর যোগ্যতা অর্জন পর্বে ৬৩৪.৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ফাইনালে ওঠেন। পরে ফাইনালে ৫০৫.৮ পয়েন্ট স্কোর করে স্বর্ণপদক জয়ের পাশাপাশি নতুন জুনিয়র বিশ্বরেকর্ড গড়ে আন্তর্জাতিক শুটিং মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফল প্রমাণ করে ভারতের জুনিয়র শুটিং কাঠামো এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ক্রমশ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতীয় শুটারদের ধারাবাহিক সাফল্যের ধারাই বজায় থাকল সুহলের এই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে।
আসানসোলের অভিনব সাউ রবিবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্ডালের কাজি নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরে নামেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশ ও রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করে ফেরা এই স্বর্ণজয়ীকে বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে ভিড় জমান অসংখ্য ক্রীড়াপ্রেমী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থক। মালা, মিষ্টি এবং করতালির মধ্য দিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
অভিনবের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খান। ফোন করে তিনি অভিনবকে শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, তাঁর এই কৃতিত্বে পশ্চিমবঙ্গ ও গোটা দেশ গর্বিত। ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও বড় সাফল্য অর্জনের শুভকামনাও জানান তিনি।
অন্ডাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিনব বলেন, “দেশের হয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিততে পেরে খুব ভালো লাগছে। এই সাফল্যের পেছনে আমার বাবা-মা এবং কোচের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাঁদের সমর্থন ছাড়া এই জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হত না।”
দুর্গাপুরে সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট, আসানসোল-দুর্গাপুর মেট্রোর সম্ভাবনা

