
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: কারখানার ধোঁয়া-দূষণ সহ্য করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অথচ চাকরির সুযোগ মিলছে বহিরাগতদের— এই অভিযোগে শুক্রবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের নমো সগড়ভাঙা এলাকা। স্থানীয় বেকারদের অবিলম্বে নিয়োগ এবং কাজ হারানো শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে একটি বেসরকারি ইস্পাত কারখানার ৪ নম্বর ইউনিটের গেটের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন এলাকার একাংশ। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস)।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে কারখানা থেকে প্রায় আড়াইশো শ্রমিককে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এখনও তাঁদের প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ), গ্র্যাচুইটি-সহ অন্যান্য আইনসিদ্ধ পাওনা মেটানো হয়নি। শুধু আশ্বাস দিয়েই সময় কাটানো হচ্ছে।
বিক্ষোভকারী সুবল মণ্ডল বলেন, “শ্রমিকদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রাপ্য টাকা এখনও দেওয়া হয়নি।” আরেক বিক্ষোভকারী প্রদীপ আঁকুড়ে বলেন, “আমরা উৎপাদন বন্ধ করতে চাই না। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কথা না শুনলে আন্দোলনের পথেই হাঁটতে হচ্ছে।” জয়দেব বাউড়ির দাবি, যাঁদের কাজ থেকে সরানো হয়েছে তাঁদের অবিলম্বে কাজে ফিরিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর অভিযোগ, বারবার আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ বৈঠকে বসতে রাজি হচ্ছেন না।
প্রায় ২৫ বছর ওই কারখানায় কাজ করা স্থানীয় শ্রমিক হারাধন দাসের কথায়, “দূষণের বোঝা বইছি আমরা। অথচ চাকরিও চলে গেল। শেষে মাত্র ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাচুইটিও পাইনি।” বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত বিজেপি নেতা তেজ নারায়ণ পাণ্ডে অভিযোগ করেন, “তৃণমূল সরকারের আমলে কারখানায় নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। সেই সংস্কৃতি এখনও চলছে। এবার তার বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার হবে।” পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোকওভেন থানার পুলিশ। তবে এই বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
চাকরির নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, দুর্গাপুরে আইএনটিটিইউসি ভবনের দখল নিল বিজেপি
লাদাখে ৬১০০ মিটার শৃঙ্গ জয়! মাউন্ট কাইগরের শিখরে দুর্গাপুরের কালীসাধন
দুর্গাপুরে ‘লোক কল্যাণ মেলা’- ছোট পুঁজিতে বড় স্বপ্নের হাতছানি

