
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: শুক্রবার থেকে চলা শ্রমিক আন্দোলনকে ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের কোকওভেন থানা এলাকার নমো সগড়ভাঙার একটি বেসরকারি ইস্পাত কারখানার ৪ নম্বর গেট এলাকা। আন্দোলন তুলে দিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এগিয়ে এলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস)-এর নেতৃত্বে শ্রমিক ও সমর্থকেরা শুক্রবার থেকে কারখানার গেটের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, কোনও পূর্ব নোটিস ছাড়াই কর্মীদের কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় যোগ্য যুবকদের উপেক্ষা করে বহিরাগতদের নিয়োগ করা হচ্ছে। এই সমস্ত অভিযোগের প্রতিবাদেই কারখানার গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়েছিল।
শনিবার আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি সুবীর রায়ের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পুলিশ আন্দোলন সরিয়ে কারখানার প্রবেশপথ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীরা বাধা দেন। এরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন।
পুলিশ পরে কারখানার দুটি গেট খুলে দেয়। যদিও আন্দোলনকারীরা ফের গেটের পাশে বিক্ষোভে বসে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে প্রশাসন অযথা শক্তি প্রয়োগ করে ভাঙার চেষ্টা করছে। তাঁরা দাবি করেন, সমস্যার সমাধান আলোচনার টেবিলে হওয়া উচিত ছিল।
চাকরির নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, দুর্গাপুরে আইএনটিটিইউসি ভবনের দখল নিল বিজেপি
লাদাখে ৬১০০ মিটার শৃঙ্গ জয়! মাউন্ট কাইগরের শিখরে দুর্গাপুরের কালীসাধন
ঘরে ফিরলেন বিশ্বজয়ী, অন্ডাল বিমানবন্দরে উষ্ণ সংবর্ধনা
আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপির দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি বুদ্ধদেব মণ্ডল বলেন, শ্রমিকদের দাবিগুলি ন্যায্য। তাই আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পরিবর্তে কারখানা কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা।
ঘটনার পর গোটা কারখানা চত্বরজুড়ে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানার সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতির উপর প্রশাসন কড়া নজর রাখছে।

