WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের অন্ডালে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা পৌঁছে যান অন্ডালের শ্রীপল্লি সুভাষনগর রিক্সাডাঙাল এলাকার বাসিন্দা, ইসিএল-এর অবসরপ্রাপ্ত কর্মী দিলীপ মল্লিকের বাড়িতে। বাড়ি ঘিরে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান, যা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

প্রথমে অভিযানের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সামনে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা যাচ্ছে, ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা ও অর্থ পাচারের অভিযোগের সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন দিলীপ মল্লিক এবং তাঁর পুত্র দিগন্ত মল্লিক।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার ফেয়ারলি প্লেস এলাকায় একটি অফিস খুলে সাধারণ মানুষকে মোটা মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হত। অভিযোগ, দিগন্ত মল্লিক সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করেন এবং সেই সূত্রে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, এই অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে মল্লিক পরিবারের যোগাযোগ ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর। সম্প্রতি দিগন্ত মল্লিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের তথ্য হাতে পাওয়ার পরই ইডি এই অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়। জানা গিয়েছে, দিগন্ত মল্লিককে আগেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। 

অভিযানের সময় বাড়ির বাইরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা গোটা এলাকা ঘিরে রাখেন এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানান, দিলীপ মল্লিক দীর্ঘদিন ইসিএলে চাকরি করেছেন এবং অবসরের পর শান্তিপূর্ণ ভাবেই এলাকায় বসবাস করছিলেন। ফলে আচমকা ইডির এই অভিযান তাঁদের কাছেও বিস্ময়ের।

গোপালপুরে দুই তৃণমূল নেতাকে মারধর করে ডিম ছুড়ল বিক্ষুব্ধ জনতা!

দুর্গাপুরে কারখানার গেটে আন্দোলন তুলতে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি

দুর্গাপুরে অটোচালকদের সতর্ক করল ট্রাফিক পুলিশ, নিয়ম ভাঙলেই কড়া ব্যবস্থা

উল্লেখ্য, অন্ডালের এই তল্লাশির একদিন আগেই কলকাতার সল্টলেকে ঝাড়খণ্ডের এক পরিচিত ব্যবসায়ীর বাড়ি এবং সঞ্জয় ঘোষ নামে এক ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতেও অভিযান চালিয়েছিল ইডি। পরপর এই তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বৃহত্তর আর্থিক অপরাধ ও অর্থ পাচারবিরোধী তদন্তের অংশ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

তবে দিলীপ মল্লিকের বাড়ি থেকে কী কী নথি, ডিজিটাল তথ্য বা অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইডির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত এগোলে এই মামলার পরিধি ও সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।