WhatsApp Group Join Now
Instagram Group Join Now
উপরে জখম অ্যাম্বুল্যান্স চালক, নীচে হিরা বাউড়ি

মাসে ১০ হাজার টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগ!

দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ৬ আগস্ট: মাসে ১৫ হাজার টাকা তোলা দিতে অস্বীকার করায় হামলার শিকার হতে হল এক অ্যাম্বুল্যান্স চালককে— এমনই অভিযোগ উঠেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর হিরা বাউড়ির বিরুদ্ধে। শুধু মারধরই নয়, প্রাণনাশের হুমকি, নগদ টাকা ও সোনার হার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন আক্রান্ত চালক। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

আক্রান্ত মানিক ধীবরের বাড়ি ভিড়িঙ্গিতে। তিনি জানান, গান্ধী মোড় সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে প্রায় ৪০টি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা দেয়। ওই স্ট্যান্ডে ছয়জন মালিকের অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে। তাঁদেরই একজন তিনি। ব্যাঙ্ক ঋণ নিয়ে কেনা অ্যাম্বুল্যান্স চালিয়েই সংসার চালাতে হয় বলে জানিয়েছেন মানিক।

তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল আমলে ওই এলাকায় অ্যাম্বুল্যান্স চালাতে হলে প্রতি মাসে হিরাকে ১০ হাজার টাকা করে তোলা দিতে হত। টাকা না দিলে অ্যাম্বুল্যান্স চালাতে নানা বাধার মুখে পড়তে হত। বাধ্য হয়েই এতদিন অনলাইনে টাকা দিয়েছেন বলে দাবি তাঁর। সেই লেনদেনের প্রমাণও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মানিকের দাবি, প্রায় তিন মাস আগে তিনি তোলা দেওয়া বন্ধ করে দেন। এরপর থেকেই তাঁর উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। অভিযোগ, গত ৪ অগস্ট রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ হিরা বাউড়ি ও তাঁর এক সহযোগী অ্যাম্বুল্যান্স স্ট্যান্ডে এসে তাঁর উপর হামলা চালান। হিরা বাউড়ি লাঠি দিয়ে বুকে আঘাত করেন এবং ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগ, স্থানীয়রা ছুটে আসার আগেই হামলাকারীরা তাঁর পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকা এবং একটি সোনার হার নিয়ে পালিয়ে যান। একই সঙ্গে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। এমনকি বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইও তাঁকে রক্ষা করতে পারবেন না বলেও ভয় দেখানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন মানিক। ই-মেলের মাধ্যমে তিনি পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে জানান মানিক।

আরও পড়ুন: শ্বাসনালীতে ঢুকে গেল ধারালো যন্ত্রাংশ, অস্ত্রোপচার ছাড়াই রোগীকে সুস্থ করল মিশন হাসপাতাল

দুর্গাপুর ব্যারাজ ঘিরে বিরাট পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন হিরা বাউড়ি। তাঁর দাবি, কোনও মারধরের ঘটনা ঘটেনি এবং অভিযোগকারী কখনও তাঁকে তোলার টাকা দেননি। বরং তাঁকে ‘বাউড়ি’, ‘নীচু জাত’ এসব বলে অপমান করা হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধুমাত্র বাকবিতণ্ডা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি।

ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, অভিযোগের কথা তিনি জেনেছেন। তোলাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে বিজেপি দলের তরফে পদক্ষেপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। 

পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

উল্লেখ্য, হিরা বাউড়ি ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দুর্গাপুরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। অতীতেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৪ সালে এবং চলতি বছরের মে মাসে তাঁকে পুলিশ গ্রেফতারও করেছিল। (বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)