
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর, ৭ আগস্ট: মাসে ১৫ হাজার টাকা তোলা দিতে অস্বীকার করায় এক অ্যাম্বুল্যান্স চালককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর হিরা বাউড়ির বিরুদ্ধে। শুধু মারধরই নয়, প্রাণনাশের হুমকি, নগদ টাকা ও সোনার হার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছিলেন আক্রান্ত মানিক ধীবর।
গান্ধী মোড় সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে প্রায় ৪০টি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা দেয়। ওই স্ট্যান্ডে ছয়জন মালিকের অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে। তাঁদেরই একজন মানিক ধীবর। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল আমলে ওই এলাকায় অ্যাম্বুল্যান্স চালাতে হলে প্রতি মাসে হিরাকে ১৫ হাজার টাকা করে তোলা দিতে হত। টাকা না দিলে অ্যাম্বুল্যান্স চালাতে নানা বাধার মুখে পড়তে হত। বাধ্য হয়েই এতদিন অনলাইনে টাকা দিয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
মানিকের দাবি, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে তিন মাস আগে তিনি তোলা দেওয়া বন্ধ করে দেন। এরপর থেকেই তাঁর উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। অভিযোগ, গত ৪ অগস্ট রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ হিরা বাউড়ি ও তাঁর এক সহযোগী অ্যাম্বুল্যান্স স্ট্যান্ডে এসে তাঁর উপর হামলা চালান। হিরা বাউড়ি লাঠি দিয়ে বুকে আঘাত করেন এবং ঘুষি মারেন।
আরও পড়ুন: শ্বাসনালীতে ঢুকে গেল ধারালো যন্ত্রাংশ, অস্ত্রোপচার ছাড়াই রোগীকে সুস্থ করল মিশন হাসপাতাল
দুর্গাপুর ব্যারাজ ঘিরে বিরাট পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের
মানিকের আরও অভিযোগ, তাঁর পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকা এবং একটি সোনার হার নিয়ে পালিয়ে যান হিরা। একই সঙ্গে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। যদিও সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন হিরা বাউড়ি। তিনি দাবি করেন, জাত তুলে গালি দেওয়ায় তিনি প্রতিবাদ করেন। মারধরের ঘটনা ঘটেনি।
পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার রাতে হিরাকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার তাঁকে দুর্গাপুর আদালতে তোলা হয়। বিচারক জামিনের আর্জি খারিজ করে দেন। তাঁকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। (বিশেষ বিশেষ খবরের ভিডিয়ো দেখতে Durgapur Darpan Youtube Channel সাবস্ক্রাইব করুন)

