
দুর্গাপুর দর্পণ, দুর্গাপুর: মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ফের গণধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর। এবার এক আদিবাসী নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগে বুধবার গভীর রাতে চার আদিবাসী যুবককে গ্রেফতার করেছে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর আদালতে তোলা হলে আদালত তাদের জামিনের আবেদন খারিজ করে ৬ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
পুলিশ ও নির্যাতিতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কিশোরী কয়েকদিনের জন্য দুর্গাপুর থানা এলাকায় তার দিদির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় একটি মেলায় ঘুরতে যায় সে। অভিযোগ, সেখান থেকেই পরিচিত এক যুবক তাকে প্রলোভন দেখিয়ে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে ওই যুবক এবং পরে আরও তিন যুবক পৌঁছে পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
ধৃতরা সকলেই নির্যাতিতার দিদির বাড়ির আশপাশের বাসিন্দা। ফলে কিশোরীর সঙ্গে তাদের পূর্বপরিচয় ছিল বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার পর বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ে কিশোরী। পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনার কথা জানালে তাকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার রাতে দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অভিযানে নেমে চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
দুর্গাপুরে দোলা সেনকে কালো পতাকা, তৃণমূল-বিজেপির স্লোগান যুদ্ধ
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্গাপুর থানার সামনে বিক্ষোভে সামিল হয় মহিলা সমিতির দুর্গাপুর ইস্পাত ৩ আঞ্চলিক কমিটি। সংগঠনের সদস্যরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান তোলেন এবং থানায় স্মারকলিপি জমা দেন। মহিলা সমিতির নেত্রী মিতা ভট্টাচার্য বলেন, “দোষীদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছি। পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।”
লাদাখে ৬১০০ মিটার শৃঙ্গ জয়! মাউন্ট কাইগরের শিখরে দুর্গাপুরের কালীসাধন
উল্লেখ্য, গত ৬ জুনও দুর্গাপুরে এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে সিটি সেন্টারের অম্বুজা টাউনশিপ এলাকার একটি হোটেলে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় এক তরুণী-সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে হোটেলের ম্যানেজারও ছিলেন। পরপর দুই ঘটনায় শিল্পাঞ্চলে নারী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

